“পৃথিবীর চেয়েও বড়….?”-লাভার মহাসাগরে ঘেরা নতুন গ্রহের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশের অতল গহ্বরে এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের গ্রহের হদিশ পেলেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্রহটি সৌরজগত সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা ও প্রচলিত শ্রেণিবিভাগকে এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে। ‘এল ৯৮-৫৯ ডি’ (L 98-59 d) নামের এই রহস্যময় জগতটি এখন বিজ্ঞানের আঙিনায় এক নতুন বিস্ময়।
লাভার মহাসাগর ও বিষাক্ত বাতাস: জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহটি কোনো সাধারণ পাথুরে বা গ্যাসীয় গ্রহ নয়। এর উপরিভাগে রয়েছে ফুটন্ত ম্যাগমা বা গলিত পাথরের এক স্থায়ী মহাসাগর। শুধু তাই নয়, এর বায়ুমণ্ডল ঘেরা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে। সহজ কথায়, গ্রহটি যেন এক বিশাল গন্ধকের গোলা, যা লাভার ওপর ভাসছে।
কেন এই গ্রহটি স্পেশাল? এতদিন বিজ্ঞানীরা গ্রহদের মূলত দুটি ভাগে ভাগ করতেন—হয় পৃথিবীর মতো পাথুরে, নয়তো নেপচুন বা বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয়। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কার বলছে, মহাবিশ্বে ‘সালফার সমৃদ্ধ’ গ্রহের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। পৃথিবীর তুলনায় এটি ১.৬ গুণ বড় হলেও এর ঘনত্ব অনেক কম।
বিজ্ঞানীদের চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ:
-
ম্যাগমার আধার: গ্রহটির কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এক বিশাল ম্যাগমা মহাসাগর। এই গলিত পাথরই বায়ুমণ্ডলের হাইড্রোজেন ও সালফারকে ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
-
বিকিরণের ঢাল: সাধারণত নক্ষত্রের এক্স-রে বিকিরণে ছোট গ্রহের বায়ুমণ্ডল মহাকাশে হারিয়ে যায়। কিন্তু ম্যাগমা মহাসাগর থাকায় এই গ্রহটি তার বায়ুমণ্ডলকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
-
বিবর্তনের রহস্য: কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা গেছে, গত ৫০ লাখ বছর ধরে এই গ্রহটি ধীরে ধীরে আজকের এই বিষাক্ত ও জ্বলন্ত অবস্থায় পৌঁছেছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক হ্যারিসন নিকোলস জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে মহাকাশ আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। যদিও এই ফুটন্ত গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবে মহাবিশ্বের অন্যত্র এ ধরনের আরও অনেক বৈচিত্র্যময় গ্রহে ভিনগ্রহী প্রাণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞান মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা।