AI-যুগে ভারতের ৩০ লক্ষ কোটি টাকার আইটি শিল্প কি টিকবে? কি বলছে পরিস্থিতি?

টেক ডেস্ক: ভারতের গর্বের আইটি (IT) সেক্টর এখন এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট, অন্যদিকে মার্কিন ভিসার কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে বিপাকে দেশের প্রথম সারির তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, চ্যাটজিপিটি বা ক্লড এজেন্টের মতো এআই টুলগুলো হয়তো ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘আউটসোর্সিং’ মডেলটিকেই চিরতরে বদলে দেবে।

শেয়ার বাজারে ধস ও চাকরির সংকট

ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারতীয় আইটি সূচক ‘নিফটি আইটি ইনডেক্স’ প্রায় ২০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। অ্যানথ্রপিকের মতো কোম্পানির এআই টুল যখন দাবি করছে যে তারা আইনি সহায়তা বা ডেটা প্রসেসিংয়ের মতো কাজ অনায়াসেই করতে পারে, তখন থেকেই শুরু হয়েছে আতঙ্ক।

  • চাকরি ছাঁটাই: বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এআই-এর প্রভাবে এন্ট্রি-লেভেলের প্রায় ৫০ শতাংশ চাকরি কমে যেতে পারে।

  • নিয়োগে মন্দা: ২০২৬ সালে কর্মী নিয়োগের গতি মাত্র ২.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছে ‘ন্যাসকম’।

কেন এই আতঙ্ক?

আগে ভারতীয় কোম্পানিগুলো সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ বা বাগ ফিক্সিংয়ের জন্য নিয়মিত ফি পেত। কিন্তু এখন গ্রাহকরা সেই ছোটখাটো কাজের জন্য এআই-এর ওপর ভরসা করছে। জেফ্রিস-এর মতে, আগামী ৫ বছরে আইটি কোম্পানিগুলোর আয় বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে এবং ২০৩১ সালের পর প্রবৃদ্ধি থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আশার আলো: ৯ কোটি চাকরি গেলে আসবে ১৭ কোটি নতুন সুযোগ!

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইটি সংস্থা ইনফোসিস-এর সিইও সলিল পারেখ মনে করেন, এআই আসলে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে।

“জেনারেটিভ এআই-এর ফলে হয়তো ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার ও পরীক্ষকদের প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি কমবে, কিন্তু বিপরীতে ডেটা অ্যানোটেটর ও এআই ইঞ্জিনিয়ারের মতো প্রায় ১৭ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।” — ইনফোসিস সূত্র।

সফটওয়্যার কি তবে এআই-কে গিলে খাবে?

এইচএসবিসি (HSBC) তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানিয়েছে, এআই সিস্টেমগুলো মূলত ত্রুটিপূর্ণ। বড় বড় কোম্পানির কয়েক দশকের পুরনো এবং জটিল ‘সফটওয়্যার আর্কিটেকচার’ রাতারাতি এআই দিয়ে বদলে ফেলা সম্ভব নয়। বরং আইটি কোম্পানিগুলোই হবে বিশ্বজুড়ে এআই ছড়িয়ে দেওয়ার মূল মাধ্যম।

ভিসা ও শুল্কের জোড়া কোপ

শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, ভারতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার নতুন ভিসা নীতি। ‘মুডিস অ্যানালিটিক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা ফির কারণে ভারতীয় আইটি জায়ান্টদের পরিচালনা ব্যয় প্রায় ১০ কোটি থেকে ২৫ কোটি ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

উপসংহার: ২০২৫ সালটি ভারতীয় আইটি শিল্পের জন্য এক বড় মোড়। পুরনো প্রথা ভেঙে এখন লড়াই টিকে থাকার। বিলিং পদ্ধতি থেকে কাজের ধরন—সবকিছুতেই বদল আসছে। তবে যারা এআই-কে শত্রু না ভেবে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে, তারাই এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে।