নির্বাচন বাতিলের দাবি নওশাদ সিদ্দিকীর! ৪৫ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে, হাইকোর্টে বিরাট মামলা আইএসএফ বিধায়কের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনি লড়াইয়ে নামলেন আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ভোটার তালিকার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই কেন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হলো, এই প্রশ্ন তুলে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। নওশাদের সাফ দাবি, রাজ্যজুড়ে ‘এসআইআর’ (SIR) বা বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনোভাবেই ভোট নেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনে ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ বাতিল বা স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু: নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারপ্রক্রিয়ার পর্যায়ে আটকে রয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ শেষ না করেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোটের দিন ঘোষণা করেছেন, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। বিশেষ করে সুজাপুর (৪৯%) ও ভগবানগোলার (৪০%) মতো সংখ্যালঘু প্রধান কেন্দ্রগুলিতে বিশাল সংখ্যক ভোটারের নাম ঝুলে থাকায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিধায়ক।

আদালতে নওশাদের সওয়াল: হাইকোর্টে নওশাদ সিদ্দিকী আবেদন জানিয়েছেন যে, প্রতিদিন কতজনের নাম যুক্ত হচ্ছে বা বাদ যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ তালিকা কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, “সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ভোটাধিকার দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যদি ভোট দিতে পারবে কি না সেই আতঙ্কে থাকেন, তবে কিসের গণতন্ত্রের উৎসব?” কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসও সরব হয়েছে, তবে নওশাদই প্রথম এই ইস্যুতে আদালতের দরজায় কড়া নাড়লেন। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু-দফায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এখন হাইকোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।