মমতার ডিএ দাওয়াই কি স্রেফ আইওয়াশ? সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক দুই ঘণ্টা আগে এক মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর তড়িঘড়ি প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু এই ঘোষণার নেপথ্যে কি কেবলই জনদরদি মানসিকতা, নাকি লুকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্ক? সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেই ‘আসল প্ল্যান’ ফাঁস করে দিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ তথা বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী।

ভোটের আগে তড়িঘড়ি ঘোষণা: নির্বাচন কমিশনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক স্টান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন লাহিড়ী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মীরা যখন রাস্তায় বসে আন্দোলন করেছেন, তখন সরকার তহবিলের অভাবের দোহাই দিয়েছিল। অথচ আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লাগু হওয়ার ঠিক আগে কেন এই ঘোষণা? অশোক লাহিড়ীর মতে, এটি পুরোপুরি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার একটি কৌশল মাত্র।

অর্থনীতিবিদের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন: বিজেপি বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের কোষাগারের যা পরিস্থিতি, তাতে এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া ডিএ মেটানোর সংস্থান কোথা থেকে আসবে? তাঁর দাবি, ভোটদাতাদের বিভ্রান্ত করতেই এই কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী জানতেন যে একবার ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই শেষ মুহূর্তে সরকারি কর্মীদের শান্ত করতে এই চাল চেলেছেন তিনি।”

রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ আন্দোলন যখন চরম শিখরে, তখন বিজেপির এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, ব্যালট বক্সে মমতার এই ‘ডিএ কার্ড’ কতটা প্রভাব ফেলে।