“বাঙালি মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরালেন?”-আমলা-পুলিশ বদল নিয়ে গর্জে উঠলেন মমতা!

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল বাংলায়। আর এই ‘মধ্যরাতের গুপ্ততাণ্ডব’ (মমতার ভাষায়) নিয়েই এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও যোগান সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত পদযাত্রা থেকে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের সরানোর কড়া নিন্দা করলেন তিনি।

“মগের মুলুক চলছে!”—ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেত্রী

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনা, এমনকী ডিজি পীযূষ পাণ্ডে ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলি হলো:

  • মহিলা বিদ্বেষী আচরণ: মমতা বলেন, “বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারিকে এক কথায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন! এঁরা অ্যান্টি উইম্যান। এক বার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করা হলো না।”

  • বাঙালি-অবাঙালি বৈষম্য: শুধু বাঙালি নয়, যোগ্য অবাঙালি অফিসারদেরও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

  • বিজেপির যোগসাজশ: তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বেছে বেছে তাঁদেরই সরানো হচ্ছে যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করবেন না। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের ও মানুষের হয়ে কাজ করবেন।”

গ্যাস সংকট ও মোদীকে তোপ

গ্যাস ও পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এদিনের মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে বলেন:

  • “দেশকে রক্ষা করবেন কীভাবে?”: প্রধানমন্ত্রীর “চুন চুন কে মারেঙ্গে” মন্তব্যের পাল্টায় মমতা প্রশ্ন তোলেন, এই ধরণের ভাষা দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোভা পায় না।

  • গ্যাসের দাম: প্রধানমন্ত্রীর পাবলিসিটি কমিয়ে গ্যাসের দাম কমানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

  • বাঙালির মেধা: মোদীর “বাঙালিরা কাজ নেই বলে বাইরে যাচ্ছে” মন্তব্যের প্রতিবাদে মমতা বলেন, “তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলেই তো বাংলা থেকে লোক নিয়ে যাও।”

ভোটের আমলাতন্ত্র বনাম সরকার

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দেন, প্রশাসনিক রদবদল করে বা ভয় দেখিয়ে বাংলার সরকার বদল করা যাবে না। তাঁর কথায়, “যতই লোক পাঠান, মানুষের রায় বদলানো যাবে না। ২০২৬-এ তৃণমূল আরও বড় রেকর্ড নিয়ে নবান্নে ফিরবে।”