নবীনের জোশ না কি প্রবীণের অভিজ্ঞতা? ১৯২ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বড় চমক দিল আলিমুদ্দিন!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়ল বামফ্রন্ট। সোমবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে ১৯২টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সবথেকে বড় চমক দেখা গিয়েছে যাদবপুর কেন্দ্রে। সেখানে কোনো নবাগত নয়, বরং প্রবীণ আইনজীবী ও পোড়খাওয়া নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ওপরেই ভরসা রেখেছে সিপিআইএম। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যসভার বর্তমান সাংসদ বিকাশরঞ্জনকে প্রার্থী করে যাদবপুর পুনরুদ্ধারে বড় বাজি ধরল বামেরা।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমসহ বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধুমাত্র প্রবীণ নয়, তরুণ প্রজন্মের নেতাদেরও প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দমদম উত্তর কেন্দ্রে লড়বেন ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ দীপ্সিতা ধর। উত্তরপাড়ায় লড়ছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং পানিহাটিতে প্রার্থী করা হয়েছে কলতান দাশগুপ্তকে। এছাড়াও দমদমে ময়ূখ বিশ্বাস ও বরানগরে সায়নদীপ ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রাজারহাট-নিউটাউন ও খড়দায় যথাক্রমে সপ্তর্ষি দেব ও দেবজ্যোতি দাসের নাম উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিকাশরঞ্জনের মতো ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীকে যাদবপুরে নামিয়ে বামেরা স্পষ্ট করে দিল যে, কোনো সমঝতা নয় বরং সরাসরি জয়ই তাদের লক্ষ্য। ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে আসা বিকাশরঞ্জন একদিকে যেমন আইনি লড়াইয়ে সরকারের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাতেও তিনি পারদর্শী। এবার বিধানসভার লড়াইয়ে এই প্রবীণ-নবীন রসায়ন বামেদের কতদূর সাফল্যের মুখ দেখায়, সেটাই এখন দেখার।