ট্রাম্পের হুঙ্কার, ইরানের অবরোধ! বিশ্বজুড়ে কি এবার তেলের হাহাকার?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে আজ ১৬তম দিন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের আঁচ এবার আছড়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। রবিবার ভোরে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ফের এক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। শুধু তাই নয়, তেহরান এবার সরাসরি হুমকি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলির বন্দর এলাকাতেও।

তৈল সংকটে ভারত, ট্রাম্পের কড়া বার্তা হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, তা কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতেও। এলপিজি সিলিন্ডারের অভাব এবং আকাশছোঁয়া দাম বৃদ্ধিতে জেরবার সাধারণ মানুষ। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় সাফ জানিয়েছেন, “যসব দেশ হরমুজ প্রণালীর তেলের ওপর নির্ভরশীল, এই পথ খোলা রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে। আমেরিকা কেবল সহায়তা করবে।” ট্রাম্পের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার ভারতের মতো আমদানিকারী দেশগুলিকেও সক্রিয় হতে হবে।

খামেনেইর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা যুদ্ধের মাঝেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “আমি জানি না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না। কেউ তাকে জনসমক্ষে দেখেনি।” ট্রাম্পের মতে, খামেনেই যদি জীবিত থাকেনও, তবে তার দ্রুত আত্মসমর্পণ করা উচিত। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন, খামেনেই গুরুতর আহত এবং তার চেহারা বিকৃত হয়ে গিয়েছে। যদিও তেহরান বিষয়টিকে নিছকই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

বাহরিনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ রবিবার ভোরের দিকে বাহরিনের রাজধানী মানামায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল। বাহরিন দাবি করেছে, তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে এই হামলায় বাহরিন ও সংলগ্ন দেশগুলিতে মোট ২৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।