যোগীর রাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছেন বাদশা? স্কুলছাত্রীদের নিয়ে ‘অশ্লীল’ নাচিয়ে বিপাকে গায়ক, ক্ষুব্ধ অপর্ণা যাদব!

বিতর্কের আর এক নাম যেন র্যাপার বাদশা। বারবার চটুল কথা আর নারী অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তিনি, কিন্তু এবার জল গড়িয়েছে বহুদূর। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত হরিয়ানভি গান ‘টাটিরি’-তে স্কুলছাত্রীদের ‘অশ্লীল’ভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। খোদ উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক মহলে উঠেছে বাদশাকে নিষিদ্ধ করার দাবি। মুলায়ম সিং যাদবের পুত্রবধূ তথা বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের মাটিতে বাদশার গান ও কনসার্ট অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা হোক।
কেন এই তীব্র ক্ষোভ? গত ১ মার্চ মুক্তি পেয়েছে বাদশার নতুন গান ‘টাটিরি’। অভিযোগ উঠেছে, এই গানের মিউজিক ভিডিওতে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রীদের দিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিতে নাচানো হয়েছে। অপর্ণা যাদব তাঁর চিঠিতে সাফ জানিয়েছেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট করে ছাত্রীদের এভাবে উপস্থাপন করা সামাজিক মূল্যবোধে কুঠারাঘাত। এটি যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত ভুল বার্তা পাঠাচ্ছে।” তিনি যোগী আদিত্যনাথকে অনুরোধ করেছেন, উত্তরপ্রদেশের কোনও জেলাতেই যেন বাদশাকে পারফর্ম করার অনুমতি দেওয়া না হয়।
হরিয়ানা মহিলা কমিশনের কড়া পদক্ষেপ বিতর্ক দানা বাঁধতেই আসরে নেমেছে হরিয়ানা মহিলা কমিশন। বাদশার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কমিশনের সভানেত্রী রেনু ভাটিয়া জানিয়েছেন, এই ধরনের গান সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নারীর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়েছেন গায়ক। এক বিবৃতিতে বাদশা বলেন, “আমি নিজেও হরিয়ানার ছেলে। হরিয়ানার মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
তবে ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না বাদশা। অপর্ণা যাদবের মতে, কেবল হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলে এই অপরাধ ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়। নারীদের নিয়ে কুরুচিকর শব্দ ব্যবহারের জন্য বাদশার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এখন দেখার, লখনউয়ের মসনদ থেকে বাদশার ক্যারিয়ারে শেষ পর্যন্ত কী কোপ পড়ে।