“ভারত আমাদের বন্ধু দেশ”, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে মোদির ওপর ভরসা রাখছে ইরান!

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ যখন যুদ্ধের মেঘে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার রাতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ টেলিফোনিক কথোপকথন সম্পন্ন হয়। এই আলোচনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ‘ব্রিকস’ (BRICS) গোষ্ঠীকে একটি “দৃঢ় ও গঠনমূলক ভূমিকা” পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে এই প্রভাবশালী জোটের সভাপতিত্ব করছে ভারত।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর নিউজ এজেন্সি’ (Mehr News Agency)-র তথ্য অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান মোদিকে জানান যে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে ব্রিকসের সক্রিয় হওয়া এখন সময়ের দাবি। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, একই রাতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের আবহে এটি ছিল দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে চতুর্থ দফার আলোচনা।
ভারতের ওপর ভরসা ইরানের: পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের “ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক অবস্থান”–এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ইরান নিজে থেকে যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো অভিপ্রায়ও তাদের নেই। তবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভারতের মতো বন্ধু দেশের মধ্যস্থতা অত্যন্ত জরুরি।
মোদির উদ্বেগ ও কূটনৈতিক বার্তা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারত ইরানকে একটি “বন্ধু দেশ” হিসেবে গণ্য করে। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য ভারত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। মোদির মতে, সংঘাত বৃদ্ধি কোনো পক্ষের জন্যই শুভ নয় এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরিকাঠামোর ওপর হামলা হলেও তারা ভারতসহ অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) এবং ব্রিকসের মাধ্যমে এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রস্তাব দেন তিনি। ইরানের দাবি, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর উচিত তাদের বিরুদ্ধে হওয়া সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা করা এবং ব্রিকসকে একটি শক্তিশালী বহুপাক্ষিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে শান্তি ফিরিয়ে আনা।