শত্রুপক্ষের রাডার ধ্বংস করতে তৈরি ভারতের ‘আত্মঘাতী’ ড্রোন! পরীক্ষার জায়গা না পেয়ে কি থমকে যাবে মোদী সরকারের মাস্টারপ্ল্যান?

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করতে এবার ‘ওয়ান-ওয়ে-অ্যাটাক’ (OWA) বা ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ তৈরিতে কোমর বেঁধে নেমেছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলি। ইরানের বিখ্যাত ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের আদলে তৈরি এই ড্রোনগুলি শত্রুর রাডার এবং আকাশসীমা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে চোখের পলকে ধ্বংস করতে সক্ষম। কিন্তু এই মারণাস্ত্র তৈরির পথে এখন সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপযুক্ত ‘টেস্ট জোন’ বা পরীক্ষাকেন্দ্রের অভাব।
সাধারণ নজরদারি ড্রোন ওড়ার পর নিরাপদে ফিরে আসে, যা সাধারণ বিমানবন্দরে পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু আত্মঘাতী ড্রোনের ধর্মই হলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে নিজেকে উড়িয়ে দেওয়া। ভারতের তৈরি এই ড্রোনগুলোর পাল্লা ১০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর ড্রোনটি যেখানে আছড়ে পড়বে, সেখানে একটি বিশাল নিরাপদ ‘ইমপ্যাক্ট জোন’ প্রয়োজন। ওড়িশার বালাসোরে অবস্থিত আইটিআর (ITR) বর্তমানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, ছোট ড্রোন কর্মসূচির জন্য সেখানে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে রাজস্থানের পোখরান এবং মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এই ড্রোনের কিছু পরীক্ষামূলক মহড়া চালানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর ‘অগ্নিবর্ষ’ মহড়াতেও এর ক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘপাল্লার ড্রোনের সম্পূর্ণ ফ্লাইট প্রোফাইল এবং ৪০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড নিয়ে পরীক্ষা চালানোর জন্য এই এলাকাগুলিও পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের ওপর দিয়ে একটি দীর্ঘ করিডোর এবং নিরাপদ টার্মিনাল জোনের অভাব মেটাতে না পারলে ভারতের এই ড্রোন বিপ্লব কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।