গ্যাস বুকিংয়ে আসছে আমূল বদল! ঘরে বসেই সারুন আধার যাচাই, জোগান নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মেঘ ঘনীভূত হতেই রান্নার গ্যাসের জোগান ও কালোবাজারি নিয়ে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এলপিজি (LPG) সরবরাহে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের পরিষেবা নিশ্চিত করতে আধার ভিত্তিক বায়োমেট্রিক বা e-KYC করা বাধ্যতামূলক। যদিও এই প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়েছিল, তবে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভুয়ো কানেকশন রুখতে এর ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।

কেন এই কড়াকড়ি? ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির জোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে একদল অসাধু চক্র যাতে সিলিন্ডার মজুত বা কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্যই e-KYC-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। মন্ত্রকের দাবি, বায়োমেট্রিক যাচাই হয়ে গেলে একজন গ্রাহকের নামে একাধিক ভুয়ো সংযোগ রাখা অসম্ভব হবে, ফলে প্রকৃত সাধারণ মানুষ সময়মতো গ্যাস পাবেন।

কীভাবে করবেন e-KYC? এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। গ্রাহকদের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন নেই।

  • সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন সংস্থার (যেমন- Indane, HP বা Bharat Gas) অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

  • সেখানে ‘Aadhar Face Authentication’ বা বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের বিকল্প বেছে নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই কয়েক মিনিটে কাজ সারা যাবে।

উদ্বেগে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা: এদিকে, সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা। ‘হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, গতকাল পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও আজ থেকে জোগান অনেকটাই কমেছে। তেল কোম্পানিগুলিও নতুন করে সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে হোটেল শিল্প বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে।