সি.ভি. রমনের পাড়ায় এবার জেন-জি’র ভিড়! কলকাতার এই গলিতেই কি হবে আপনার নেক্সট ফটোশুট?

তিলোত্তমার বুকে হেরিটেজ আর আধুনিকতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটল বউবাজারের প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটে। একসময়ে যে গলিতে পা রেখেছিলেন নোবেলজয়ী সি.ভি. রমন, আজ সেই গলিই হয়ে উঠেছে শহরের তরুণ প্রজন্মের সবথেকে প্রিয় ফটোশুট ডেস্টিনেশন। স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে ও কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্যোগে ভোল বদলে যাওয়া এই পাড়া এখন কেবল ইতিহাস নয়, বরং নস্টালজিয়ার এক জীবন্ত ক্যানভাস।

ইতিহাসের হাতছানি: ১৯০৭ সাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সে কলকাতায় এসে এই প্রেমচাঁদ বড়াল স্ট্রিটেই নিজের জীবন শুরু করেছিলেন সি.ভি. রমন। শুধু রমন নন, এই পাড়াতেই থাকতেন কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ রায়চাঁদ বড়াল। সময়ের প্রলেপে জীর্ণ হওয়া সেই পুরনো বাড়িগুলোকেই এবার নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-র কথায়, “এই পাড়ার ইতিহাস আলাদা। আমরা চাই মানুষ আসুক, ছবি তুলুক এবং শহরের এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে জানুক।”

দেওয়ালচিত্রে ফুটে উঠেছে তিলোত্তমা: দুর্গা মাঠ এলাকা থেকে শুরু করে গোটা রাস্তা জুড়ে ১০ জন শিল্পীর তুলিতে সেজে উঠেছে কলকাতার আইকনিক সব দৃশ্য। দেওয়ালজুড়ে কোথাও হলুদ ট্যাক্সি, কোথাও হাতে টানা রিকশা, আবার কোথাও ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের লোগো। রসগোল্লা থেকে ফুচকা— কলকাতার প্রতিটি আবেগকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রাফিতির মাধ্যমে।

দিনের আলো বনাম সন্ধের জাদু: দিনের আলোয় এই রাস্তা যতটা উজ্জ্বল, সন্ধে নামলে থিম আলোর মায়াবী পরিবেশে তা হয়ে ওঠে আরও রহস্যময় ও সুন্দর। প্রি-ওয়েডিং শুট থেকে শুরু করে বন্ধুদের সাথে রিলস বানানো— সবকিছুর জন্যই এখন আদর্শ এই গলি। হাতিবাগানের নবীনপল্লীর আদলে তৈরি এই নতুন রূপ দেখতে রবিবার বা ছুটির দিনে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কেবল ছবি তোলাই নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের পুরনো গলির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।