মমতা থেকে চন্দ্রিমা—ভোটার তালিকায় নাম বিভ্রাট! উত্তপ্ত আবহে শুরু পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল নির্বাচন

আইনি লড়াই ছেড়ে এবার ভোটের ময়দানে মুখোমুখি রাজ্যের আইনজীবীরা। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের (Bar Council of West Bengal) হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। ২৩টি আসনের জন্য লড়ছেন মোট ৭৫ জন প্রার্থী। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে জেলা আদালত—সর্বত্রই এখন সাজ সাজ রব। একদিকে তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী, অন্যদিকে বিজেপি ও বামপন্থীদের লড়াই—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন এখন কার্যত রাজনৈতিক মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
প্রার্থী তালিকায় চাঁদের হাট: এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৩ জন, বিজেপির ২২ জন এবং বামপন্থী শিবিরের ১২ জন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও ১৮ জন নির্দল প্রার্থী ময়দানে রয়েছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বজবজের বিধায়ক তথা প্রাক্তন বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান অশোক দেব, প্রাক্তন সাংসদ সুবাশিস চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। ২৩টি আসনের মধ্যে ১৮টি সাধারণ এবং ৫টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও দুই মহিলা সদস্যকে মনোনীত করা হবে।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: নির্বাচন শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছিল ভোটার তালিকা নিয়ে। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে সেই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নামও ছিল না বলে দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীকালে সংশোধিত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সেই জট কাটানো হয়।
ফলাফলের অপেক্ষা: সোমবার ও মঙ্গলবার—টানা দু’দিন ধরে চলবে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি আইনজীবী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভোট মিটলেও ফলাফল জানতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যালট পেপারের জটিল গণন প্রক্রিয়ার কারণে গতবার ফল প্রকাশে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার এবং বার কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করবে এই ৭৫ জনের ভাগ্য।