ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কোপ ভারতের হেঁশেলে! এলপিজি সঙ্কট রুখতে মোদী সরকারের ‘মাস্টারপ্ল্যান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, ভারতের জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ ততটাই তীব্র হচ্ছে। ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে এলপিজি (LPG) সরবরাহে বড়সড় ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকটজনক মুহূর্তে মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের এক জরুরি বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের হেঁশেলে রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে।
কড়া আইন প্রয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ: বৈঠকের পরেই দেশজুড়ে অপরিহার্য পণ্য আইন (Essential Commodities Act) প্রয়োগ করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে একটি ‘কন্ট্রোল অর্ডার’ জারি করে সমস্ত রিফাইনারি এবং পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোকে এলপিজি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, হাইড্রোকার্বন উপাদানগুলোকে এখন অন্য কাজের বদলে সরাসরি এলপিজি পুলে পাঠাতে হবে, যাতে রান্নার গ্যাসের অভাব না ঘটে।
অগ্রাধিকার পাবে ঘরোয়া গ্যাস: সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গৃহস্থালি গ্যাস (PNG) এবং পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সিএনজি (CNG)-কে ১০০% নিশ্চিত সরবরাহ দেওয়া হবে। এছাড়া, দেশের তিন প্রধান তেল সংস্থা—ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ঘরোয়া গ্রাহক ছাড়াও হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের জন্য সরবরাহ পর্যালোচনা করতে তিনজন একজিকিউটিভ ডিরেক্টরের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও, ভারত সরকার দেশীয় মজুদ নিশ্চিত করতে সবরকম কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ করছে।