হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধের মুখে, পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন! জ্বালানি সংকট রুখতে কড়া পদক্ষেপ মোদী সরকারের

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রলয়ঙ্করী প্রভাব এবার ভারতের দৈনন্দিন জীবনে। অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ায় দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি। একদিকে রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম ও অভাব, অন্যদিকে পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়— সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। এই চরম সংকট মোকাবিলায় ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন (Essential Commodities Act) জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন এই জরুরি আইন?
সংবাদসংস্থা এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান ব্যাহত হয়েছে। ভারতে যাতে জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাসের সুষম বণ্টন বজায় থাকে এবং কেউ মজুতদারি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই আইন কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো— গৃহস্থের রান্নার গ্যাস (পাইপলাইন ও সিলিন্ডার) এবং জরুরি পরিবহণ ব্যবস্থাকে সচল রাখা।

তৃণমূল স্তরে হাহাকার:
কেন্দ্র পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার দাবি করলেও বাস্তব ছবিটা বেশ কঠিন।

হোটেল শিল্পে বিপর্যয়: বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ হওয়ায় বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলিতে ২০ শতাংশেরও বেশি হোটেল-রেস্তরাঁ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

বিকল্পের খোঁজে আমজনতা: গ্যাস না পেয়ে মানুষ এখন ভিড় করছেন ইলেকট্রনিক্স দোকানে। ইনডাকশন ওভেনের চাহিদা রাতারাতি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।

নজরদারি কমিটি: পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি জেলা স্তরে গ্যাসের জোগান এবং কালোবাজারি রোখার কাজ তদারকি করবে।

ভারতে বর্তমানে ৩২ কোটিরও বেশি এলপিজি গ্রাহক রয়েছেন। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন নয়াদিল্লির প্রধান চ্যালেঞ্জ।