ট্রাম্প-পুতিন মেগা বৈঠক! এক ঘণ্টার ফোনে কি থামবে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ?

বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত উত্তেজনার মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার, ৯ মার্চ, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে টেলিফোনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মূলত ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বন্ধের উপায় নিয়েই এই আলাপচারিতা। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কথোপকথন ছিল অত্যন্ত ‘খোলামেলা, গঠনমূলক ও ইতিবাচক।’

কেন এই ফোনকল গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া এবং বিশ্বজুড়ে এর সরবরাহ থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার পক্ষ থেকেই পুতিনকে ফোন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি কথোপকথন।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু:

ইরান পরিস্থিতি: ইরান যুদ্ধে মস্কোর পরোক্ষ সমর্থনের খবর থাকলেও, এদিনের ফোনে পুতিন দ্রুত ‘রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক’ উপায়ে যুদ্ধ থামানোর ওপর জোর দিয়েছেন। ট্রাম্পও জানিয়েছেন যে পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ‘সহায়ক’ ভূমিকা পালন করতে চান।

ইউক্রেন সংঘাত: প্রায় পাঁচ বছরে পা রাখা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তেলের বাজার: তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমাতে দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে পথ বের করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

শান্তির বার্তা না কি নতুন রণকৌশল?
ট্রাম্প এই আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ কথা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, সম্প্রতি কিছু গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে রাশিয়া ইরানকে সামরিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই ট্রাম্প-পুতিন সংলাপকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।