পশ্চিম এশিয়ায় চরম যুদ্ধের ডামাডোল! এবার এক টনের বিধ্বংসী ‘হেভি ওয়ারহেড’ মোতায়েন করছে ইরান

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবার আরও রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে। এতদিন পর্যন্ত ইরান সতর্কতামূলক বা সীমিত প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটলেও, এবার সরাসরি ধ্বংসলীলা চালানোর চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর খবর, শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে ইরান এখন এক টনেরও বেশি ওজনের ‘হেভি-ওয়ারহেড’ বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক যুক্ত মিসাইল মোতায়েন করতে শুরু করেছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধের অশনিসংকেত।

আইআরজিসি-র নয়া রণকৌশল
ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর এরোস্পেস কমান্ডার জেনারেল মুসাভি এই নয়া রণকৌশলের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Air Defense) সম্পূর্ণ অকেজো করে দিতে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ (একসঙ্গে অসংখ্য মিসাইল হামলা) পথ বেছে নিচ্ছে ইরান। এর ফলে ইজরায়েলের মতো শক্তিশালী দেশও পাল্টা প্রতিরোধের সুযোগ পাবে না।

লক্ষ্য যখন সর্বাধিক ধ্বংসসাধন
ইরান এখন আর ছোটখাটো বা প্রতীকী হামলার পথে হাঁটতে রাজি নয়। এক টনের বেশি ওজনের এই ওয়ারহেডগুলোর মূল লক্ষ্য হলো শত্রুপক্ষের মজবুত সামরিক পরিকাঠামো, যেমন— এয়ারবেস, ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এবং কমান্ড সেন্টারগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া। এই মিসাইলগুলো কংক্রিটের মজবুত দেওয়াল ভেদ করে মাটির গভীরে গিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের সরাসরি নিশানায়।

তুরুপের তাস ‘খোররামশহর-৪’
ইরানের এই নয়া কৌশলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে ‘খোররামশহর-৪’ মিসাইল। এই মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলটি রেকর্ড পরিমাণ বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। শুধু তাই নয়, ইরান পরিকল্পনা করেছে একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোঁড়ার, যাতে ইজরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি একসঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খায় এবং তাদের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল শেষ হয়ে যায়। ইরানের এই আগ্রাসী অবস্থান পশ্চিম এশিয়ায় এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha