একাধিক সরকারি প্রকল্পের টাকা একাউন্টে? ‘যুবসাথী’ নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ!

রাজ্য সরকারের নতুন ‘যুবসাথী’ (Yuvasathi Scheme) প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। গত ৮ মার্চ থেকেই অনেকের মোবাইলে টাকা ঢোকার মেসেজ আসতে শুরু করেছে এবং সোমবার থেকে সরাসরি ক্রেডিট হচ্ছে টাকা। কিন্তু এই খুশির খবরের মাঝেই ঘনিয়ে এসেছে বড়সড় বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তথ্য গোপন করে একই ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। নবান্নের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষকবন্ধুর প্রাপকদের অ্যাকাউন্টেও ঢুকছে যুবসাথীর টাকা!

অসঙ্গতির নেপথ্যে কী কারণ?
যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, আবেদনকারী অন্য কোনও সরকারি আর্থিক সহায়তা পান কি না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্যান্য ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষ ‘না’ অপশন বেছে নিয়ে ফর্ম জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আবেদনের সময় অনলাইন ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যথাযথ না হওয়ায়, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বনাম বাস্তব চিত্র
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই সাফ জানিয়েছিলেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পান, তারা যুবসাথীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। এই প্রকল্পের মূল শর্তই হলো— আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে এবং অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাওয়া চলবে না। অথচ বর্তমানে বহু উপভোক্তা একসঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু এবং যুবসাথী— এই তিন প্রকল্পেরই টাকা পকেটে ভরছেন।

তথ্য গোপন করলে কী সাজা?
যুবসাথী ফর্মের তৃতীয় পয়েন্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সুবিধা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও অতীতে মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা তোলার মতো ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপের নজির কম, তবুও প্রশাসন যদি এবার ‘ক্রস-ভেরিফিকেশন’ শুরু করে, তবে বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লক্ষ উপভোক্তা। যারা নিয়ম ভেঙে টাকা নিচ্ছেন, তাঁদের সুবিধা যে কোনও মুহূর্তে বন্ধ করে দিতে পারে নবান্ন।