মুম্বইয়ে বন্ধ ২০% রেস্তোরাঁ! রান্নার গ্যাসের আকালে এবার কি জুটবে না খাবার?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বইয়ের পাতে। বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে মুম্বইয়ের খাদ্যশিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। মঙ্গলবার ‘আহার’ (AHAR) হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে শহরের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জোগানে উন্নতি না হলে শহরের অর্ধেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্মশানেও থমকেছে কাজ, বদলাচ্ছে রেস্তোরাঁর মেনু
গ্যাসের এই আকাল শুধু হোটেলেই সীমাবদ্ধ নেই। পুণে পুর নিগম (PMC) পরিচালিত গ্যাস-ভিত্তিক শ্মশান চুল্লিগুলিও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতে গৃহস্থালির গ্যাসের জোগান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। অন্যদিকে, যে রেস্তোরাঁগুলি এখনও খোলা রয়েছে, সেখানে গ্যাসের সাশ্রয় করতে মেনু থেকে বাদ পড়ছে একাধিক পদ। অনেক জায়গাতেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে রান্নার গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী। গত ৭ মার্চ থেকে ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ও ‘প্যানিক বায়িং’ রুখতে কেন্দ্র গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, যুদ্ধের আতঙ্কে যারা আগে ৫৫ দিনে সিলিন্ডার নিতেন, তারা এখন ১৫ দিনেই বুকিং করছেন। এই কৃত্রিম চাহিদা রুখতেই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারি আশ্বাস
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যেন প্রোপেন এবং বিউটেন উৎপাদনে গৃহস্থালির চাহিদাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যদিও সরকারি আধিকারিকরা দাবি করেছেন যে ভারতের পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর (যেমন পাকিস্তান) তুলনায় অনেক ভালো এবং দেশে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও এটিএফ মজুত রয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।