জয়সূর্যের বিদায়, কোচের দায়িত্বে প্রোটিয়া কিংবদন্তি; ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান লঙ্কানদের!

ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপে ভরাডুবির ক্ষত এখনো টাটকা। বিপর্যয়ের দায় নিয়ে কিংবদন্তি সনথ জয়সূর্য কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরদিনই বড় চমক দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (SLC)। ২০১১ সালে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ গ্যারি কার্স্টেনকে আগামী দু’বছরের জন্য দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ করল তারা।

সোমবার এক সরকারি বিবৃতিতে লঙ্কান বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে তিন ফরম্যাটেই দ্বীপরাষ্ট্রের দায়িত্ব বুঝে নেবেন কার্স্টেন। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেই এই প্রোটিয়া মাস্টারমাইন্ডের শরণাপন্ন হয়েছে বোর্ড। ২০২৮ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কার্স্টেনের প্রধান লক্ষ্য হবে বিধ্বস্ত লঙ্কান বাহিনীকে পুনর্গঠন করে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবোয়ের মাটিতে হতে চলা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়া।

সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেল কার্স্টেনের কেরিয়ারে গ্যারি কার্স্টেনের কোচিং কেরিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। ভারতের কোচ হিসেবে ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনিদের বিশ্বসেরা করার কৃতিত্ব তাঁর মুকুটে শ্রেষ্ঠ পালক। তবে সাম্প্রতিক সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি তাঁর। পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ হিসেবে বাবর আজমদের দায়িত্ব নিলেও মাত্র ছ’মাস টিকেছিলেন তিনি। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে তাঁর কোচিংয়েই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল পাকিস্তান। সদ্য সমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপে তিনি নামিবিয়া দলের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

কেন এই রদবদল? আয়োজক দেশ হিসেবে চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচ জিতে অনায়াসেই সুপার-এইট নিশ্চিত করেছিল তারা। এমনকি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়েছিল দাসুন শানাকার দল। কিন্তু ছন্দপতন ঘটে জিম্বাবোয়ের কাছে হারে। এরপর সুপার-এইট পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা। এই ব্যর্থতার পরেই সরে দাঁড়ান জয়সূর্য। এখন দেখার, গ্যারি কার্স্টেনের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায় কি না।