বেতন নেন না ১ টাকাও! লোকসভার এই ২ সাংসদকে কুর্নিশ জানাচ্ছে দেশ, নাম জানেন কি?

লোকসভার সাংসদ হওয়া মানেই বিশাল বেতন, ভাতা আর রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা—এমনটাই সাধারণ মানুষের ধারণা। কিন্তু ভারতীয় রাজনীতির এই চেনা ছকে বড়সড় বদল এনেছেন দুই বিশেষ সাংসদ। তাঁরা মাস গেলে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্য বেতনের একটি টাকাও পকেটে তোলেন না। তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন, দল আলাদা, এমনকি ভৌগোলিক অবস্থানও উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু নিঃস্বার্থ জনসেবার ক্ষেত্রে তাঁরা একই বিন্দুতে মিলেছেন।
তথ্য জানার অধিকার আইনে (RTI) উঠে আসা এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে লোকসভার ৫৪১ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন সাংসদ রয়েছেন যারা নিয়মিত বেতন নিতে অস্বীকার করেছেন। এঁদের একজন হলেন হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের বিজেপি সাংসদ এবং প্রখ্যাত শিল্পপতি নবীন জিন্দল। অন্যজন হলেন মণিপুরের ইম্ফলের কংগ্রেস সাংসদ ড. বিমল আকোজাম আনগোমচা। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি তাঁদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সাথে দলীয় নির্দেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
সম্পত্তির পাহাড় নাকি জনসেবার তাগিদ? নবীন জিন্দল দেশের অন্যতম ধনী সাংসদ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১,২৪১ কোটি টাকা। শিল্পপতি হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি বরাবরই জনহিতকর কাজের সাথে যুক্ত। সেই ধারা বজায় রেখেই তিনি সংসদের বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন না।
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ ড. বিমল আকোজাম আনগোমচার বিষয়টি একটু আলাদা। তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯৭ লক্ষ টাকা। জিন্দলের তুলনায় তাঁর আর্থিক অবস্থা অনেকটাই সাধারণ হলেও, নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি বেতন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মণিপুরের উত্তাল পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করাকেই তিনি পরম ধর্ম মনে করেন।
বাকিরা কী করছেন? মজার বিষয় হলো, লোকসভার সবচেয়ে ধনী সাংসদ কিন্তু নবীন জিন্দল নন। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরের টিডিপি সাংসদ চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি বর্তমান সংসদের সবথেকে ধনী ব্যক্তি, যার সম্পত্তির পরিমাণ ৫,৭০৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে আছেন তেলঙ্গানার বিজেপি সাংসদ কোন্দা বিশ্বেশ্বর রেড্ডি (৪,৫৬৮ কোটি টাকা)। তবে এত বিপুল সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিয়মিত বেতন গ্রহণ করেন।
লোকসভা সচিবালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৪৮১ জন সাংসদ প্রতি মাসে নিয়ম মেনে বেতন নেন। বাকিদের মধ্যে কেউ আংশিক ভাতা নেন বা কেউ বিশেষ কোনো কারণে প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছেন। তবে নবীন জিন্দল এবং ড. বিমল আকোজাম যেভাবে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি কোষাগারে নিজেদের প্রাপ্য ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।