বাসি খাবারেই তুষ্ট মা শীতলা! কেন পুজোর দিন উনুন জ্বালাতে নেই? জানুন আসল রহস্য

হিন্দু শাস্ত্রে দেবী শীতলা হলেন আরোগ্য ও শান্তির প্রতীক। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে মা পার্বতীর ‘শীতলা’ রূপের আরাধনা বাঙালির ঘরে ঘরে এক প্রাচীন ঐতিহ্য। এই বছর ১০ এবং ১১ মার্চ পালিত হতে চলেছে ‘বসোড়া’ বা শীতলা সপ্তমী ও অষ্টমী উৎসব। তবে এই পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ‘বাসি’ বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া। কেন এই দিনে বাড়িতে আগুন জ্বালাতে নেই? কেনই বা ঠান্ডা খাবার খাওয়ার ওপর এত জোর দেওয়া হয়? এর পিছনে ধর্মের পাশাপাশি লুকিয়ে আছে গভীর বিজ্ঞান।
কেন পূজিত হন দেবী শীতলা? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের এই সময়েই বসন্ত বা স্মল পক্সের মতো সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। দেবী শীতলা এই সমস্ত রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করেন। তাঁর এক হাতে কলস (শীতল জলের প্রতীক) এবং অন্য হাতে ঝাড়ু (পরিচ্ছন্নতার প্রতীক) থাকে, যা আদতে সুস্থ জীবনধারারই ইঙ্গিত দেয়।
ঠান্ডা খাবারের নেপথ্যে বিজ্ঞান চৈত্র মাস হলো শীত বিদায় ও গরমের আগমনের সময়। এই সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায় এবং পেটের সমস্যা বা জ্বরের ঝুঁকি বাড়ে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে গরম বা মশলাদার খাবার শরীরের পিত্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, যা রোগের কারণ হয়। তাই শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এই দিনে বাসি বা ঠান্ডা খাবার খাওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে। এটি আসন্ন গ্রীষ্মের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করার একটি প্রাচীন প্রাকৃতিক উপায়।
কী এই ‘বসোড়া’ রীতি? পুজোর আগের দিন রাতে বাড়ির মহিলারা স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নানা পদ রান্না করে রাখেন। মেনুতে থাকে লুচি, ভাজিয়া, মিষ্টি ভাত, হালুয়া ইত্যাদি। পুজোর দিন সকালে দেবী শীতলাকে সেই ঠান্ডা খাবার নিবেদন করা হয়। এই দিনে বাড়ির উনুন জ্বালানো অশুভ মনে করা হয়। বাসি খাবার খাওয়ার এই প্রাচীন রীতি থেকেই উৎসবটির নাম হয়েছে ‘বসোড়া’ (বাসি থেকে আগত)।
এই প্রথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সুস্থ থাকতে গেলে কেবল ভক্তি নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি।