আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিস্ফোরক সমীরা রেড্ডি: উচ্চতা ও গায়ের রঙ নিয়ে একসময় সহ্য করতে হয়েছে অকথ্য কটাক্ষ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে বলিউডের চিরাচরিত গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকটি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডি। কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে গায়ের রঙের কারণে কীভাবে তাঁকে নিয়মিত হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি ভাগ করে নিয়েছেন। সমীরা জানান, তৎকালীন সময়ে ফর্সা হওয়ার এক অদ্ভুত মানসিকতা ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে, যার জেরে তাঁকে মেকআপের মোটা প্রলেপ দিয়ে গায়ের রঙ লুকোতে বাধ্য করা হতো।

মেকআপের আড়ালে যন্ত্রণার দিন: সাক্ষাৎকারে সমীরা বলেন, “একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে সবসময় অনুভব করানো হতো যে আমাকে আরও ফর্সা হতে হবে। এমনকি শরীরের যে অংশগুলো উন্মুক্ত থাকত, সেখানেও মেকআপের প্রলেপ দিতে হতো। এটা আমার জন্য অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণার ছিল।” শুধু গায়ের রঙ নয়, লম্বা এবং ছিপছিপে শারীরিক গঠন না হওয়ার কারণেও তাঁকে বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর অভিনয়ের চেয়ে শারীরিক গঠন নিয়েই বেশি চর্চা হয়েছে।

পরিবর্তিত সময় ও সচেতনতা: কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় সন্তানদের বড় করার জন্য অভিনয় জগত থেকে বিরতি নিয়েছিলেন সমীরা। সেই সময় কাজ হাতছাড়া হওয়া নিয়ে আক্ষেপ জাগলেও, আজ তিনি সেই মানসিকতাকে পেছনে ফেলে এসেছেন। সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন তিনি। আগের প্রজন্মের তুলনায় আজকের প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন। লিঙ্গ বৈষম্য, বুলিং বা ট্রোলিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে শৈশব থেকেই এক স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হচ্ছে।

সমীরা বিশ্বাস করেন, প্রকৃত নারীর ক্ষমতায়ন বাইরের জগত নয়, বরং শুরু হওয়া উচিত নিজের ঘর থেকে। তাঁর মতে, পরিবারের সদস্যদের সম্মান ও শক্তি দেওয়ার মাধ্যমেই সমাজ বদলানো সম্ভব। নিজের অদম্য জেদ ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে তিনি আজ সব সংকোচ কাটিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।