অল ইংল্যান্ডের ফাইনালে ‘অনমনীয়’ লক্ষ্য সেন! ক্র্যাম্প ও হলুদ কার্ড তুচ্ছ করে ইতিহাসের হাতছানি

পায়ের ফোস্কা, পেশিতে তীব্র টান, আর আম্পায়ারের দেওয়া হলুদ কার্ড—কিছুই থামাতে পারল না লক্ষ্য সেনকে। মানসিক দৃঢ়তা ও অদম্য জেদের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী দেখিয়ে অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টনের ফাইনালে জায়গা করে নিলেন ভারতের এই তরুণ সেনসেশন। সেমিফাইনালে কানাডার ভিক্টর লাইকে ২১-১৬, ১৮-২১, ২১-১৫ গেমে হারিয়ে পঁচিশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন তিনি।

অবিশ্বাস্য লড়াকু মানসিকতা প্রায় দেড় ঘণ্টার সেই ম্যারাথন সেমিফাইনাল ছিল ধৈর্যের চরম পরীক্ষা। দীর্ঘ র‌্যালিগুলোতে ক্রমাগত এনার্জি খরচ হয়েছে, কিন্তু লক্ষ্যর লক্ষ্য ছিল স্থির। নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে ক্র্যাম্পের যন্ত্রণায় যখন তাঁর খুঁড়িয়ে চলা শুরু হয়, তখন মনে হয়েছিল ম্যাচ থেকে ছিটকে যাবেন। কিন্তু ব্যথার কাছে হার মানেননি তিনি। হলুদ কার্ড দেখেও দমে না গিয়ে স্ম্যাশের পর স্ম্যাশ মেরে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দেন। ম্যাচ শেষে লক্ষ্য বলেন, “তৃতীয় সেটে ক্র্যাম্প শুরু হলেও আমি প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়েছি। আমি শুধু পরের দিনের দিকে তাকিয়ে আছি।”

সামনে এবার পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ রবিবার মেগা ফাইনাল। বিশ্বের এক প্রান্তে যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি ভারত, অন্য প্রান্তে অল ইংল্যান্ড জয়ের লক্ষ্যে নামবেন লক্ষ্য। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপের লিন চুন ই। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১ নম্বর এই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে লক্ষ্যর লড়াইটা সহজ হবে না, কারণ অতীত পরিসংখ্যান বলছে, চার সাক্ষাতের চারটিতেই হেরেছেন লক্ষ্য। তবে শনিবারের সেমিফাইনালে ব্যথাকে জয় করা লক্ষ্য সেন কি রবিবার নতুন ইতিহাস গড়বেন? অনমনীয় জেদের যে কাহিনী তিনি লিখলেন, তা গোটা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এক দারুণ প্রেরণা হয়ে থাকবে।