অবসরের জন্য কত টাকা জমাবেন? এই ৩টি নিয়মে আজই শুরু করুন আর্থিক পরিকল্পনা

আপনি কি ৪০ বছর বয়সেই কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচতে চান? শুনতে স্বপ্নের মতো মনে হলেও, সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা বা ‘ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং’ থাকলে এটি অসম্ভব নয়। তবে মনে রাখবেন, আজকের ৫০ হাজার টাকার মান ২০ বছর পর মুদ্রাস্ফীতির কারণে অনেক কমে যাবে। তাই এমন একটি তহবিল গড়তে হবে যা মুদ্রাস্ফীতির সাথে পাল্লা দিয়ে আপনার খরচ মেটাবে।

অবসরের গোল্ডেন রুলস বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরের পর সঞ্চয় দীর্ঘস্থায়ী করতে ‘উইথড্রয়াল রেট’ বা তোলার হারের ওপর নজর দিতে হয়:

  • ৪% রুল: বছরে ৬ লক্ষ টাকা (মাসে ৫০ হাজার) খরচের জন্য আপনার ১.৫ কোটি টাকার ফান্ড থাকা প্রয়োজন।

  • ৩% রুল: ভারতে মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা ৩% নিয়ম মানার পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে আপনার অন্তত ২ কোটি টাকার একটি শক্তিশালী ফান্ড প্রয়োজন।

ঝুঁকি এড়াতে ‘বাকেট স্ট্র্যাটেজি’ বাজারের অস্থিরতা থেকে জমানো টাকা বাঁচাতে বিশেষজ্ঞরা ‘বাকেট স্ট্র্যাটেজি’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন:

  • প্রথম বাকেট: ২-৩ বছরের জরুরি খরচ (১২-১৮ লক্ষ টাকা) ফিক্সড ডিপোজিট বা লিকুইড ফান্ডে রাখুন।

  • দ্বিতীয় বাকেট: পরবর্তী ৪-৭ বছরের খরচের টাকা ডেট ফান্ডে বিনিয়োগ করুন।

  • তৃতীয় বাকেট: বাকি অর্থ ইক্যুইটিতে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য ছেড়ে দিন।

বাজার যখন খারাপ থাকে, তখন ইক্যুইটি থেকে টাকা না তুলে প্রথম ও দ্বিতীয় বাকেট ব্যবহার করুন। আবার বাজার চাঙ্গা হলে ইক্যুইটির লাভ দিয়ে বাকেটগুলো পূর্ণ করে নিন। মনে রাখবেন, শুধুমাত্র সঞ্চয় নয়, কৌশলগত বিনিয়োগই আপনাকে আগাম অবসরের পথে এগিয়ে দেবে।