আন্তর্জাতিক নারী দিবস: BFSI সেক্টরে ২.৮ লক্ষ কোটির হাতছানি! ভারতীয় নারীরা কি প্রস্তুত?

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা ভারতের কর্মরত নারীদের আর্থিক অবস্থার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা IANS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মরত নারীর সামনে BFSI (ব্যাংকিং, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্স্যুরেন্স) সেক্টরে ২ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার বিশাল সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল অ্যাক্সেস থাকা সত্ত্বেও নারীরা বিনিয়োগ ও ঋণের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে।

মূল পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন সূচক ২০১৮ সালে যেখানে ৪৬ শতাংশ ছিল, তা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৬৭ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৪৭ শতাংশই নারী। তবুও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক:

  • পার্সোনাল লোন: মাত্র ১৭ শতাংশ।

  • ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার: মাত্র ১৩ শতাংশ।

  • মিউচুয়াল ফান্ড: মোট অ্যাসেটের মাত্র ২৩ শতাংশ নারীদের মালিকানাধীন।

কেন এই দূরত্ব? সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী নারীদের ৯৭ শতাংশই আধুনিক আর্থিক পরিষেবা সম্পর্কে সচেতন নন। যদিও ৯৩ শতাংশ নারী সম্পদ বৃদ্ধির জন্য সঞ্চয় করেন, কিন্তু অধিকাংশেরই বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে ধারণা অস্পষ্ট। কেবল ৫৬ শতাংশ নারী শিক্ষা বা স্বাস্থ্যজনিত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গে বিনিয়োগকে যুক্ত করেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৮৪ শতাংশ নারী আজও যেকোনো বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল।

আশার আলো তবে পিছিয়ে থাকার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক স্পষ্ট। নারীদের আর্থিক শৃঙ্খলার হার তুলনামূলকভাবে ভালো। ৬৬ শতাংশ নারীর ক্রেডিট স্কোর চমৎকার, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬০ শতাংশ। এছাড়া, আর্থিক জালিয়াতি বা ঋণের ক্ষেত্রে ডিফল্ট হওয়ার হারও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে অনেক কম।