ইজরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের মিসাইল হানা! হাইফায় দাউদাউ আগুন, সংকটে আদানির বন্দর?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আগুনের গোলার দখলে। শনিবার রাতে ইজরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহর ও বন্দরনগরী হাইফায় (Haifa) একের পর এক শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালাল ইরান। এই হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছে ইজরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই শোধনাগারের ঠিক পাশেই অবস্থিত হাইফা বন্দর, যা বর্তমানে ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির নিয়ন্ত্রণাধীন।

ইজরায়েলের মেরুদণ্ডে আঘাত?

হাইফার এই শোধনাগারটি ইজরায়েলের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মেটায়।

  • ক্ষমতা: এখানে দৈনিক ১,৯৭,০০০ ব্যারেল তেল শোধন করা সম্ভব।

  • ক্ষয়ক্ষতি: শনিবার রাতের হামলায় তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানির পাশাপাশি প্লাস্টিক ও রাসায়নিক তৈরির পরিকাঠামোও আগুনের গ্রাসে।

  • তেহরানের বার্তা: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়েছেন, “ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। আমরা আত্মসমর্পণ করব না।”

আদানির পোর্টে বিপদের মেঘ

হাইফা শোধনাগারের ঠিক পাশেই রয়েছে হাইফা পোর্ট। ২০২৩ সালে ইজরায়েলের গ্যাডোট গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে এই বন্দরটি অধিগ্রহণ করেছিল আদানি গোষ্ঠী।

  • ভারতীয় স্বার্থ: এই বন্দরে আদানি গোষ্ঠীর প্রায় ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে।

  • উদ্বেগ: শোধনাগারের বিধ্বংসী আগুনের আঁচ বা মিসাইলের লক্ষ্যভ্রষ্ট অংশ বন্দরে আছড়ে পড়লে আদানির কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হামলা ও পাল্টা হামলা

ইরানের দাবি, গত কয়েকদিন তাদের তেলের ডিপোতে ইজরায়েলি হামলার ‘বদলা’ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারিভাবে মুখ না খুললেও রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাতে হাইফায় দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধের সাইরেন বেজেছে। ইজরায়েলি সেনার দাবি, তারাও পালটা হিসেবে তেহরান ও আলবোর্জ এলাকার ৪টি তেল ডিপো ধ্বংস করে দিয়েছে।

[Image: Night sky of Haifa lit up by missile explosions near the refinery and port]

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাইফার এই বন্দর দিয়ে ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বড় বাণিজ্য চলে। যুদ্ধের ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ভারতের আমদানিতেও টান পড়তে পারে।