খোলস ছাড়ল ওয়াশিংটন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতকে বড় ছাড় ট্রাম্পের

বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের বিদেশনীতির এক বিশাল জয় নিশ্চিত হলো। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। যে আমেরিকা একসময় রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে সতর্ক করেছিল, তারাই এখন সমুদ্রের মাঝে আটকে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় (Waiver) দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। মূলত ইরান যাতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে একাধিপত্য বিস্তার করতে না পারে এবং তেলের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমেরিকার এই ঘোষণার পরেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude) ১.৫২% কমে প্রতি ব্যারেল $৮৪.২১ ডলারে নেমেছে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude) ২.১০% কমে দাঁড়িয়েছে $৭৯.৩১ ডলারে।
কেন এই ইউ-টার্ন আমেরিকার?
-
হরমুজ প্রণালীতে সংকট: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন ৬০টি ট্যাঙ্কার চলত, গত ১ মার্চ তা কমে মাত্র ৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
-
আটকে পড়া কার্গো: এই ছাড় শুধুমাত্র সেই সব রুশ তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা ৫ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে জাহাজে লোড করা হয়েছে এবং বর্তমানে সমুদ্রে আটকে আছে।
-
ভারতের অর্থনীতিতে স্বস্তি: ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৯০% তেল আমদানি করে। রাশিয়ার সস্তা তেল আমদানির পথ প্রশস্ত হওয়ায় ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে টান কমবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর থেকে ২৫% অতিরিক্ত ট্যারিফ তুলে নিলেও রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে নজরদারি চালানোর কথা বলেছিলেন। তবে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “জাতীয় স্বার্থ” বজায় রেখেই ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারত প্রতিদিন ২ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করত, যা গত ফেব্রুয়ারিতে কমে ১.০৪ মিলিয়নে নেমেছিল। এই নতুন ছাড়ের ফলে আমদানির গ্রাফ আবারও উর্ধ্বমুখী হতে চলেছে।