লখনউতে জন্মদিনের আসরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! অভিযুক্ত নেতার আত্মীয়, উত্তাল এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী

উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হলো। প্রাক্তন বিধান পরিষদ সদস্য (MLC) গুড্ডু ত্রিপাঠীর ভাগ্নের জন্মদিনের পার্টিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো ১২ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রের। নিহতের নাম উনাইজ। সোমবার বিকেলে লখনউয়ের কৃষ্ণনগর থানা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সঞ্জীব ত্রিপাঠী, তাঁর স্ত্রী, ড্রাইভার এবং তিন নাবালকসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
উনাইজের বাবা জামির খান জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ একটি গাড়িতে করে তিন নাবালক বন্ধু এবং একজন ড্রাইভার উনাইজকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারা জানিয়েছিল, বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে যাচ্ছে। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই রহস্য ঘনীভূত হয়। সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিট নাগাদ সঞ্জীব ত্রিপাঠী উনাইজের মায়ের ফোনে কল করে হুমকি দিতে শুরু করেন এবং জানান যে উনাইজ ‘লোকবন্ধু’ হাসপাতালে ভর্তি আছে।
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দীর্ঘক্ষণ তাঁদের সন্তানের মুখ দেখতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ যখন মৃতদেহ দেখায়, তখন দেখা যায় উনাইজের কপালের ঠিক মাঝখানে গুলির ক্ষত। জামির খানের অভিযোগ, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, ঠান্ডা মাথায় ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। রাত ৮টার দিকেও খুনিরা ফোন করে জানতে চেয়েছিল ছেলেটি বেঁচে আছে কি না।”
ময়নাতদন্তের পর মঙ্গলবার বিকেলে উনাইজের দেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নেয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সমাজবাদী পার্টির মোহনলালগঞ্জের সাংসদ আরকে চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত তিন নাবালককে আটক করেছে এবং বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।