উপসাগরীয় মহাসঙ্কট! ১ কোটি ভারতীয়র রুটিরুজিতে টান, ফিরে আসছে ১৯৯০-এর কুয়েত যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান বনাম ইজরায়েল ও আমেরিকার এই ত্রিমুখী সংঘাত এবার ভারতের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বিশেষজ্ঞরা ১৯৯০ সালের সেই অভিশপ্ত ‘গালফ ওয়ার’ বা উপসাগরীয় যুদ্ধের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব ও কাতার মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ভারতীয়র জীবন ও জীবিকা ঘোর সঙ্কটে।

কর্মহীন হওয়ার আতঙ্ক ও উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি: পরিসংখ্যান বলছে, শুধু আমিরশাহিতেই রয়েছেন ৩৫ লক্ষ ভারতীয়। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে অন্তত ৩৭টি ভারতীয় জাহাজ। ওমান উপকূলে ইরানের হামলায় ইতিমাজধ্যেই এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু সংবাদ উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দুবাই ও কাতারের আকাশপথ কার্যত বন্ধ থাকায় মুম্বই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরু থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি বিমান বাতিল করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভারতীয়দের উদ্ধারের নীল নকশা তৈরি করতে বৈঠকে বসেছে।

জ্বালানি সঙ্কট ও অগ্নিমূল্য বাজার: ভারতের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় তেলের জোগানে টান পড়া নিশ্চিত। মার্চের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ৬৫ ডলার থেকে লাফিয়ে ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রাখায় ভারতের রান্নার গ্যাসের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। যদিও দিল্লির দাবি, ভারতের হাতে অন্তত ৮ সপ্তাহের জরুরি জ্বালানি মজুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।

স্মৃতিতে ১৯৯০-এর সেই দিনগুলি: ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হুসেনের কুয়েত আক্রমণের পর প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভারতীয় রাতারাতি সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৮৮টি বিশেষ বিমানে ১ লক্ষ ১২ হাজার মানুষকে ফেরানো হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারলিফট। সেবার প্রবাসীদের পাঠানো বিদেশি মুদ্রা বা রেমিট্যান্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতি তলানিতে ঠেকেছিল। এবারও ১ কোটি প্রবাসীর রোজগার বন্ধ হলে দেশের অভ্যন্তরে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির সুনামি আছড়ে পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যেই বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কথা বলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।