বুথের ভেতর-বাইরে কড়া নজরদারি! কমিশনের নতুন মডেলে কাঁপছে ভোট লুটেরারা

বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজ্যে ভোট প্রস্তুতিতে বড়সড় রদবদল আনল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী জেলা শাসক ও কমিশন কর্তাদের সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন। সেখানেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এবার শুধুমাত্র বুথের ভেতরেই নয়, বুথের বাইরেও বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তের ছবি সরাসরি নজরদারি করবে কমিশন। উদ্দেশ্য একটাই—ভোটকেন্দ্রে যে কোনও ধরণের অশান্তি বা জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা সমূলে বিনাশ করা।

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অনেক সময় বুথের ভেতরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বাইরে অশান্তি তৈরি করে ভোটারদের ভয় দেখানো হয়। এবার সেই ফন্দি আর খাটবে না। বুথের বাইরে কড়া পাহারায় থাকবেন মাইক্রো-অবজারভাররা। গন্ডগোল হলেই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডিউটিতে থাকাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল বা স্থানীয় ব্যক্তির ‘আতিথেয়তা’ গ্রহণ করতে পারবে না।

ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে কমিশন দেখেছে, অনেক বুথেই ন্যূনতম পরিকাঠামো অর্থাৎ জল বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়। এই বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইনি জটিলতা ও বিবেচনাধীন মামলা সামলাতে আগামী ৬ মার্চ ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসছেন ১০০ জন করে মোট ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় মামলার চাপ বেশি, সেখানে এই অফিসাররা মোতায়েন থাকবেন। সব মিলিয়ে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে কমিশন।