‘আপনি কাদের হয়ে লড়ছেন?’ সীমান্তে জমি জট ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধনা বিজেপির জাতীয় সভাপতির

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন কেবল রাজ্যের ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার লড়াই। সোমবার শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে এই ভাষাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, এ রাজ্যে সরকারি মদতে যেভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তার ফলে আজ গোটা দেশ সমস্যার সম্মুখীন।
সুকনার এক হোটেলে উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে একাধিক ম্যারাথন বৈঠক করেন নিতিন নবীন। সেখানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে মানুষ এনে এখানে বসানো হচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকারই। মুখ্যমন্ত্রীকে আমার প্রশ্ন, আপনি ঠিক কাদের হয়ে লড়ছেন? কেন দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?” তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি ছুটে গিয়েছিলেন। এমনকি সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রকে সামান্য জমিও রাজ্য দিচ্ছে না বলে তোপ দাগেন তিনি।
এদিন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েও সরব হন বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা। দার্জিলিংয়ের বিশ্বখ্যাত চা শিল্পের দুর্দশা থেকে শুরু করে রাজ্যে কলকারখানা না থাকা— সব কিছুর জন্যই তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন তিনি। নিতিন নবীনের কথায়, “সেমিকন্ডাক্টর হাবের যুগে বাংলায় সামান্য ইন্ডাস্ট্রি পর্যন্ত আসছে না। এই সরকার উন্নয়নের বদলে কেবল তোষণের রাজনীতি করছে।”
তবে এদিনের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় ছিল পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ। শঙ্কর ঘোষ, নীরজ জিম্বা ও রাজু বিস্তার মতো বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি পাহাড়ের ১১টি জনজাতির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন নিতিন নবীন। বৈঠক সূত্রে খবর, সেখানে ফের একবার গোর্খাল্যান্ড বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি উঠেছে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ও ১১টি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার আর্জিও জানানো হয়েছে তাঁর কাছে। পাহাড়ের দাবি প্রসঙ্গে নিতিন নবীন কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিধায়ক নীরজ জিম্বা। ছাব্বিশের ভোটের আগে উত্তরবঙ্গকে যে বিজেপি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে, এদিনের সফর তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।