আদালতের ঘরেই পড়ে ২০ হাজার টাকা, মেদিনীপুরের নতুন সংসারে কি পৌঁছাবে হাইকোর্টের সেই নির্দেশ?

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নাকি নিয়তির পরিহাস? দীর্ঘ ৩০ বছর আগে এক যৌনকর্মীকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু পুলিশি রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, ওই মহিলার কোনো হদিশ নেই। ফলে তিন দশক ধরে সেই টাকা গচ্ছিত ছিল হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেলের কাছে। অবশেষে এক আইনজীবীর তৎপরতায় সেই মামলা আবার জীবন ফিরে পেল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানির আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। কালীঘাট এলাকার এক যৌনকর্মীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন জনৈক পুলিশকর্মী। তাতে বাধা দেন ওই যৌনকর্মীর দেহরক্ষী। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পুলিশকর্মী সেই দেহরক্ষীকে থানায় নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। সেই সময় এই অমানবিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৬ সালে বিষয়টি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে হাইকোর্টে ওঠে।

২০০০ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালীন বিচারপতি অশোক কুমার মাথুর ও বিচারপতি বারিন ঘোষ অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বেতন থেকে টাকা কেটে মৃতের পরিবারকে ৪০ হাজার ও ওই যৌনকর্মীকে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশ আদালতকে জানায়, ওই মহিলার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি ‘আদালত বান্ধব’ আইনজীবী তাপস কুমার ভঞ্জ প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ওই মহিলা এখনও জীবিত এবং বর্তমানে মেদিনীপুরের একটি গ্রামে নতুন সংসার পেতে বসবাস করছেন। তাঁর এই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত ৩০ বছরের পুরনো এই ফাইল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সোমবার জানা যাবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওই নারী তাঁর হকের টাকা এবং সম্মান ফিরে পান কি না।