৫ তারকা হোটেলে থেকে রথযাত্রা? বিজেপিকে নজিরবিহীন আক্রমণ মমতার, দিলেন পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী

বাংলার আসন্ন নির্বাচনে পারদ চড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যে। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হোলি ও দোল উৎসবের এক অনুষ্ঠান থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলনেত্রী। গেরুয়া শিবিরের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ও ‘রথযাত্রা’ কর্মসূচিকে বিঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, এই রথযাত্রা আসলে বিজেপির ‘শেষযাত্রা’ হতে চলেছে।
বিজেপি নেতাদের বিলাসিতা নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফাইভ স্টার হোটেলে থেকে রথযাত্রা করছেন? মনে রাখবেন, এটা আপনাদের শেষ রথযাত্রা। মানুষের আশীর্বাদ ছাড়া কেবল রথ বের করে বিনাশ আটকানো যায় না।” তিনি দাবি করেন, এই যাত্রা আসলে বিজেপির পতনের সূচনা বা ‘বিনাশ যাত্রা’।
এদিন মমতার বক্তৃতায় প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিতর্ক। বিশেষ করে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ভবানীপুর একটি ছোট কেন্দ্র, সেখানে মাত্র ২.৬ লক্ষ ভোটার। সেখান থেকে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক ও প্রতিহিংসামূলক কাজ। দিল্লির বিজেপি অফিস থেকে নাম কাটা হচ্ছে আর এখানে রথযাত্রা পালন করা হচ্ছে।”
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তালিকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোথায় গেল সেই ভোটাররা? আমি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছি, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছি, কিন্তু ওরা জেনেশুনে ভোটার তালিকা ছোট করছে। এটা ভীরুদের মতো আচরণ।” ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আজ একজনের নাম কেটেছে, কাল আপনার কাটতে পারে। কিন্তু মানুষ এর যোগ্য জবাব দিতে তৈরি আছে।
তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুললেও নিজের জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী মমতা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “ষড়যন্ত্র করে ভোটার কমানো হলেও আমি ভবানীপুর থেকেই জিতব। এক ভোটে হলেও আমিই জিতব। আমার বিশ্বাস আছে ভগবান, আল্লাহ এবং বাংলার সর্বস্তরের মানুষের ওপর।” এই অবিচারের প্রতিবাদে তিনি ধরনায় বসারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে নৈতিক সমর্থনের আবেদন জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় ৪৭,০৯৪ জনের নাম বাদ পড়েছে এবং আরও ১৪,১৫৪ জনের নাম এখনও বিবেচনাধীন। এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই এখন ময়দানে তৃণমূল সুপ্রিমো।