বিচার শুরুর আগে জেল দেওয়া দণ্ডাদেশের সমান’, এআই সম্মেলনে বিক্ষোভ মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ আদালতের

রাজধানীর হাই-প্রোফাইল ‘এআই সম্মেলন’-এ শার্টলেস বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন যুব কংগ্রেস কর্মীকে জামিন দিল দিল্লির একটি আদালত। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রবি এই জামিন মঞ্জুর করে সাফ জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদ ছিল স্রেফ একটি “প্রতীকী রাজনৈতিক সমালোচনা”। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মূল নীতির পরিপন্থী।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় মোদি ও ট্রাম্পের ছবি সংবলিত টি-শার্ট হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন যুব কংগ্রেস কর্মীরা। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছিল। রবিবার জামিন মঞ্জুর করে বিচারক বলেন, “যদি তদন্তের বিশেষ প্রয়োজন না থাকে, তবে বিচার করার আগে আটকে রাখা দণ্ডাদেশের আগেই শাস্তি দেওয়ার শামিল।” আদালত আরও জানায়, বিক্ষোভকারীদের স্লোগান উসকানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক ছিল না এবং এতে বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির কোনও প্রমাণ মেলেনি।
পুলিশের দাবি ও পাল্টা যুক্তি দিল্লি পুলিশ জামিনের বিরোধিতা করে দাবি করেছিল, এই বিক্ষোভে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এবং এটি দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তবে আদালত জানায়, ব্যক্তিস্বাধীনতাই মূল নীতি এবং কারাবাস একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই রায়ের ফলে কৃষ্ণ হরি, নরসিংহ যাদব এবং সৌরভ সিং-সহ মোট ৯ জন কর্মী মুক্তি পেলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায় গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নে এক বড় জয়।