নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নজিরবিহীন সংঘাত! সিইও-র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা রাজ্য সিভিল সার্ভিস অফিসারদের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ থাকা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াল রাজ্যের আমলারা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর এই গাফিলতির দায় নিচুতলার আধিকারিকদের (ERO/AERO) ওপর চাপালে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাল পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস এক্সিকিউটিভ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (WBCSEOA)। সংগঠনের সাফ কথা, অফিসাররা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন; ফাইল আটকে রেখেছেন দিল্লির পাঠানো অবজার্ভাররা।

সিইও-র পোস্টে বিতর্ক বিতর্কের সূত্রপাত সিইও দপ্তরের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। সেখানে দাবি করা হয়, ইআরও এবং এইআরও-দের গাফিলতির কারণেই ভোটার তালিকায় বহু নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এই মন্তব্যের পালটা দিয়ে বিডিও এবং এসডিও পর্যায়ের আধিকারিকদের সংগঠন জানিয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অফিসাররা নিয়ম মেনে প্রতিটি আবেদনের শুনানি করেছেন এবং নির্দিষ্ট পোর্টালে তথ্য আপলোড করেছেন।

কাঠগড়ায় কেন্দ্রীয় অবজার্ভাররা অ্যাসোসিয়েশন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভাররা আধিকারিকদের নিষ্পত্তি করা ফাইলগুলিতে কোনও কারণ ছাড়াই ‘অসম্মতি’ জানিয়েছেন। কোনও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ছাড়াই ফাইলগুলি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার নাম ঝুলে রয়েছে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক জটিলতার দায় অন্যায্যভাবে রাজ্যস্তরের আধিকারিকদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা? সংগঠন মনে করছে, দিনরাত পরিশ্রম করা আধিকারিকদের এভাবে প্রকাশ্যে অপমান করা হচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত সরকারি কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। নজিরবিহীন এই ‘টুইট যুদ্ধ’ এখন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।