খামেনেই-হত্যায় অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর! শ্রীনগরে হাজার হাজার মানুষের শোকমিছিল, বন্ধ ইন্টারনেট-স্কুল

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের সরাসরি প্রভাব আছড়ে পড়ল কাশ্মীর উপত্যকায়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করল শ্রীনগর-সহ কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন শ্রীনগরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী দু’দিন উপত্যকার সমস্ত স্কুল ও কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকেই শ্রীনগরের রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষের শোকমিছিল। হাতে খামেনেইর ছবি ও কালো পতাকা নিয়ে প্রতিবাদীরা রাষ্ট্রপুঞ্জের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর (UNMOGIP) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের নিশানায় ছিল মূলত আমেরিকা ও ইজরায়েল। শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লালচকে জড়ো হয়ে দফায় দফায় চলে স্লোগান। মিছিলে পুরুষদের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যায় মহিলা ও শিশুদেরও শামিল হতে দেখা যায়। গত কয়েক বছরের মধ্যে শ্রীনগরে এত বড় মাপের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মিছিল কার্যত নজিরবিহীন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) নলিন প্রভাত নিজে রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি তদারকি করেন। এখনও পর্যন্ত বড় কোনো নাশকতার খবর না মিললেও উপত্যকার পরিবেশ অত্যন্ত থমথমে। এই উত্তপ্ত আবহে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে থাকা এ রাজ্যের পড়ুয়া ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কাশ্মীর ও লাদাখের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে খামেনেইর প্রভাব ছিল অপরিসীম, যা এদিনের জনজোয়ারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।