‘এ বার এমন আঘাত করব…’, খামেনেই সপরিবারে খতম হতেই ট্রাম্পের চরম হুঙ্কার

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর লড়াই এখন আর ‘ছায়াযুদ্ধ’ নেই। শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-র পর রবিবার সকাল থেকেই পালটা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। আর তার ঠিক পরেই হোয়াইট হাউস থেকে ইরানকে ধ্বংসের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ‘প্রলয়ঙ্কর’ হুঁশিয়ারি
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস (IRGC) খামেনেই হত্যার বদলা নিতে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার’ হুমকি দেওয়ার পরেই ট্রুথ সোশ্যালে গর্জে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান:
“ইরান এইমাত্র জানিয়েছে তারা আমাদের আরও শক্তিশালীভাবে আঘাত করবে। তাদের এটা না করাই ভালো। কারণ তারা যদি তা করে, তবে আমরা তাদের ওপর এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে দুনিয়ায় কেউ কখনও দেখেনি।”
এই বার্তার মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত ইঙ্গিত দিলেন যে, ইরান পালটা দিলে আমেরিকা সরাসরি দেশটির রাষ্ট্রকাঠামো ধুলিসাৎ করে দিতে পারে।
২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল বৃষ্টি
ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। রবিবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা অন্তত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরাক, সিরিয়া ও জর্ডনের আকাশে এখন শুধুই ইরানি ড্রোন আর মিসাইলের শব্দ। আইআরজিসি টেলিগ্রামে দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবথেকে বড় অভিযান শুরু হতে চলেছে যে কোনও মুহূর্তে।
কী এই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’?
শনিবার ভোরে ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে এই বিশেষ অপারেশন শুরু করে। লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং কট্টরপন্থী শাসনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। এই আকাশপথের হামলাতেই খামেনেইর বাসভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তেহরান স্বীকার করেছে, হামলায় খামেনেইর সঙ্গে তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনিও নিহত হয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে হাহাকার ও আতঙ্ক
যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। দুবাই বিমানবন্দরের রানওয়েতে আটকা পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভারতীয় তারকা শাটলার পিভি সিন্ধু সহ হাজার হাজার যাত্রী। বহু বিমান মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসছে। আবহাওয়া ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাষ্ট্রপুঞ্জ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ডাক দিলেও, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘অপারেশন’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে নারাজ।
বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্য কি আজই কোনো বৃহত্তর ‘পরমাণু বিপর্যয়ের’ সাক্ষী হবে? নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।