জগদ্দল কাণ্ডে হাইকোর্টের নজিরবিহীন পদক্ষেপ! পুলিশি তদন্তে ক্ষুব্ধ বিচারক, তৃণমূল নেতা খুনের ভার পেল NIA।

২০২৪ সালের সেই রক্তঝরা ১৩ নভেম্বর। নৈহাটি উপনির্বাচনের দিন ভরদুপুরে জগদ্দল থানার মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে খুন হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অশোক সাউ। দেড় বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট হতে পারল না কলকাতা হাইকোর্ট। উল্টে রাজ্য পুলিশের গাফিলতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলার তদন্তভার সরাসরি এনআইএ (NIA)-এর হাতে তুলে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
পুলিশি ব্যর্থতা ও হাইকোর্টের কড়া অবস্থান: জগদ্দল থানার নাকের ডগায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ পুলিশের চার্জশিট এবং তদন্তের ধরনে এতটাই অসন্তুষ্ট যে, তিনি চলমান ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, পুলিশের তদন্তে বহু ফাঁক রয়েছে যা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে পারে। তাই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকেই (NIA) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার ও রাজনৈতিক চাপানউতোর: আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মৃত অশোক সাউয়ের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, দেড় বছর কেটে গেলেও তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং জানান, পুলিশের তদন্তে অনেক গলদ থাকায় হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাঁরা মৃত পরিবারকে আইনি সাহায্য দেবেন। অন্যদিকে, জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম এই নির্দেশের পিছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূলকে হেনস্থা করতেই বিজেপি এনআইএ-কে ব্যবহার করছে।”
তৃণমূল নেতা খুনের নেপথ্যে কি কোনও বড় চক্রান্ত বা নাশকতামূলক যোগ রয়েছে? এনআইএ-র তদন্ত শুরু হতেই এখন সেই উত্তর খুঁজছে গোটা উত্তর ২৪ পরগনা।