“৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হচ্ছে অফার!”-2026-এ ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেনে BJP-TMC

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও দেরি, কিন্তু ডিজিটাল ময়দানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ছায়াযুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলির তুরুপের তাস এখন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। রাজনৈতিক জনসভার ভিড়ের চেয়েও এখন দলগুলির কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মোবাইলের স্ক্রিনে কত ‘ভিউ’ আসছে। আর সেই ভিউ নিশ্চিত করতেই এবার দেদার টাকা ঢালার অভিযোগ উঠল রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে।
একটি রিলের দাম কত? সম্প্রতি কলকাতার পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর শালিনী মুখোপাধ্যায় বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইমেল প্রকাশ্যে এনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির নাম করে একটি সংস্থা তাঁকে পেইড কোলাবরেশনের প্রস্তাব দেয়। শর্ত ছিল সাধারণ— ইনস্টাগ্রামে অন্তত ২০ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে এবং রিল প্রতি দেওয়া হবে ২০ হাজার টাকা। শালিনী সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও, এই ঘটনাটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
লাইফস্টাইল ভ্লগার কণিনিকা দে-র মতো ‘ম্যাক্রো’ ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি আরও চাঞ্চল্যকর। তিনি জানান, তৃণমূল এবং বিজেপি— উভয় পক্ষ থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখানে একেকটি রিলের জন্য ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দেওয়া হয়! যদিও কণিনিকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শকে তিনি ব্যবসার সঙ্গে মেলাতে চান না।
রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান: এই টাকার খেলা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপির রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সপ্তর্ষি চৌধুরীর দাবি, “দল কোনও বাইরের সংস্থাকে ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগের দায়িত্ব দেয়নি। এই ইমেলগুলি ভুয়ো হতে পারে।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁরা ইনফ্লুয়েন্সারদের বাংলার স্বার্থে লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অর্থের বিনিময়ে এই প্রচার কি না, তা নিয়ে তিনি ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। আর্থিক অনটনের কথা শুনিয়ে লড়াই থেকে পিছিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ নেতা রোহন মিত্রের সাফ কথা, “সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার খরচ সামলানোই দায়, ইনফ্লুয়েন্সারদের দেওয়ার মতো টাকা আমাদের নেই।”
কেন ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর এত ভরসা? সোশ্যাল মিডিয়া দুনিয়ায় ফলোয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে ইনফ্লুয়েন্সারদের চারটি ভাগে ভাগ করা হয়:
-
ন্যানো: ১০ হাজারের কম ফলোয়ার।
-
মাইক্রো: ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ফলোয়ার।
-
ম্যাক্রো: ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ ফলোয়ার।
-
মেগা: ১০ লক্ষের বেশি ফলোয়ার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাড়ার মোড়ে মিটিং করার চেয়ে ন্যানো বা মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সারদের দিয়ে স্থানীয় স্তরে প্রচার চালানো অনেক বেশি কার্যকর। আবার মেগা ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ ভোটারের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
ভোট যত এগোবে, এই ‘ডিজিটাল পিআর’ (PR) এজেন্সিগুলোর দাপট তত বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে প্রশ্ন উঠছে নৈতিকতা নিয়ে— টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রচার কি সাধারণ মানুষের নিরপেক্ষ মতামতকে প্রভাবিত করছে? উত্তর খুঁজছে বাংলার ডিজিটাল সমাজ।