ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে বিপদে পড়তে পারেন, জেনেনিয়ে থাকুন সতর্ক

বর্তমান যুগে ঘর থেকে বেরোলেই আমাদের প্রথম নজর যায় স্মার্টফোনের নেটওয়ার্ক বারের দিকে। ক্যাফে, বিমানবন্দর কিংবা রেল স্টেশন— সর্বত্রই এখন হাতছানি দেয় ‘ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই’। ডেটা বাঁচানোর লোভে আমরা দ্রুত সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ‘ফ্রি’ সুবিধাই আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে?

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবলিক ওয়াই-ফাই এখন হ্যাকারদের প্রধান চারণভূমি। সামান্য অসতর্কতায় আপনার ব্যক্তিগত ছবি থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং ডিটেইলস— সব চলে যেতে পারে অপরাধীদের হাতে। এই ডিজিটাল ফাঁদ থেকে বাঁচতে এখনই মেনে চলুন এই ৭টি গোল্ডেন রুল:

১. নামের আড়ালে লুকিয়ে বিপদ: হ্যাকাররা প্রায়ই আসলের মতো দেখতে ভুয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে। যেমন— ‘Airport_Free_WiFi’ বা ‘Coffee_Shop_Official’। এই নামগুলো দেখে আমরা বিশ্বাস করে ফেলি, কিন্তু এর আড়ালেই থাকে ফিশিং লিঙ্কের কারসাজি। সংযোগ করার আগে যাচাই করে নিন।

২. সন্দেহজনক লগ-ইন পেজ এড়িয়ে চলুন: যদি কোনো নেটওয়ার্কে ঢোকার সময় আপনার ফোন নম্বর, সোশ্যাল মিডিয়া পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে আসুন। অতিরিক্ত ধীরগতি বা বারবার পারমিশন চাওয়া হ্যাকিংয়ের লক্ষণ হতে পারে।

৩. ‘অটো-কানেক্ট’ অপশন বন্ধ রাখুন: স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের সেটিংসে গিয়ে ‘Auto-connect to Wi-Fi’ অপশনটি বন্ধ করে দিন। এটি চালু থাকলে আপনার অজান্তেই ডিভাইসটি কোনো অনিরাপদ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

৪. ঢাল হিসেবে ব্যবহার করুন ফায়ারওয়াল: পাবলিক নেটওয়ার্কে ডেটা আদান-প্রদান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপদ থাকতে একটি বিশ্বস্ত ‘প্রাইভেসি ফায়ারওয়াল’ বা ভালো মানের VPN ব্যবহার করুন। এটি আপনার তথ্যকে এনক্রিপ্ট করে রাখে, ফলে হ্যাকাররা চাইলেও আপনার ডেটা পড়তে পারে না।

৫. আলাদা ‘ট্রাভেল অ্যাকাউন্ট’ রাখুন: সব জায়গায় নিজের প্রাইমারি ইমেল বা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবেন না। ভ্রমণের সময় ব্যবহারের জন্য একটি আলাদা সেকেন্ডারি অ্যাকাউন্ট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে মূল অ্যাকাউন্টটি সুরক্ষিত থাকে।

৬. প্যাডলক আইকন ও সার্টিফিকেট যাচাই: যেকোনো নেটওয়ার্কে ঢোকার আগে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ‘প্যাডলক’ (Lock icon) চিহ্নটি দেখে নিন। নিরাপত্তা শংসাপত্রে (SSL) কোনো ত্রুটি থাকলে সেই নেটওয়ার্ক থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

৭. সতর্কতা হোক আপনার হাতিয়ার: প্রযুক্তির সুবিধা যেমন আছে, ঝুঁকিও তেমন। পাবলিক ওয়াই-ফাইতে থাকাকালীন কখনওই অনলাইন ট্রানজ্যাকশন বা ব্যাঙ্কিং অ্যাপ ব্যবহার করবেন না। সচেতনতাই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।