জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা সফর! ১০ কিমি হাঁটাপথ এড়াতে নিজেরাই নদী পার হচ্ছে গ্রামের মেয়েরা!

নালন্দা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা কেন্দ্রের ছবি। কিন্তু সেই নালন্দার গিরিয়াক ব্লকের সাকুচিডিহ গ্রামের বর্তমান ছবিটা বড়ই করুণ। যেখানে আধুনিক ভারতের ‘ডিজিটাল’ স্লোগান হার মেনেছে গ্রাম্য নদীর স্রোতের কাছে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন ছাত্রছাত্রী, যাদের মধ্যে ৩০ জনই মেয়ে, নিজেদের ছোট ছোট হাতে নৌকা বেয়ে সাকরি নদী পার হয়ে স্কুলে পৌঁছয়।
বাস্তবতা ও বিড়ম্বনা: সাকুচিডিহ গ্রাম থেকে সাকুচিসরাইয়ের স্কুলে যাওয়ার সরাসরি কোনও সড়ক পথ নেই। সড়ক পথে গেলে পাড়ি দিতে হয় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। ছাত্রী সুধা কুমারীর কথায়, “সকাল ৬টায় রওনা দিলে স্কুলে পৌঁছতে দুপুর সাড়ে ১২টা বেজে যাবে। তাই নৌকা ছাড়া আমাদের গতি নেই।” আরেক ছাত্রী কারিনা জানায়, তাঁদের বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সেতু।
প্রতিশ্রুতি বনাম কাজ: মুখ্যমন্ত্রীর গ্রামীণ সেতু প্রকল্পের আওতায় ৬.২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬.৮৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের কথা ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজও এক কোদাল মাটি পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের সময় সবাই সেতুর প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোটের পর আর কারও দেখা মেলে না। প্রশাসনের তরফে কোনও মাঝির ব্যবস্থাও করা হয়নি; অগত্যা ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই নৌকা চালানো শিখে নিয়েছে।
রাজগীর পল্লী পূর্ত বিভাগের আধিকারিক মুনিতা কুমারী জানিয়েছেন, সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি। বর্ষাকালে যখন নদীর জলস্তর বাড়ে, তখন এই শিশুদের পড়াশোনা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে সরকারের কাছে এই শিশুদের একটাই আর্জি— “আমাদের হাতে বৈঠা নয়, সুরক্ষিত সেতু দিন।”