পাঠ্যবইয়ে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি’! সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন তোপ, চরম ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়!

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবই নিয়ে তোলপাড় দেশ। পাঠ্যবইয়ে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি’ (Corruption in the Judiciary) শীর্ষক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO)। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবারের ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন— “আমরা অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের কী শেখাচ্ছি?”
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এদিন গভীর তদন্তের ইঙ্গিত দিয়ে এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর দীনেশ প্রসাদ সাকলানি এবং স্কুল শিক্ষা সচিবকে কারণ দর্শানোর (Showcause) নোটিশ জারি করেছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, কেন এই বই নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, “কে এই কাজটি করেছে, তাকে খুঁজে বের করা আমার কর্তব্য। তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই শুনানি চলবে।” আগামী ১১ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি।
কী নিয়ে এই বিতর্ক? অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের নতুন বই ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’-এর একটি অধ্যায়ে বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতা (Justice delayed is justice denied) এবং বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি রাখা হয়েছিল। এনসিইআরটি এই ঘটনায় ক্ষমা চাইলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি।
সরকারের অবস্থান: সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর জামশেদপুর থেকে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারের তরফে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বিচার ব্যবস্থাকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।” প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই বিষয়টির তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন এবং কীভাবে এমন সংবেদনশীল বিষয় সিলেবাসে ঢুকল, তার জবাবদিহি চেয়েছেন।