পুরুলিয়ার গভীর জঙ্গলে ‘রহস্যময়’ কুণ্ডের হদিশ! বক্রেশ্বরের পর এবার ঝালদায় প্রকৃতির আশ্চর্য খেল!

পুরুলিয়া মানেই রুক্ষ পাহাড় আর লাল পলাশের দেশ। কিন্তু সেই চেনা পুরুলিয়ার বুকেই এবার হদিশ মিলল এক অজানিত বিস্ময়ের। অযোধ্যার সীতা কুণ্ডের কথা পর্যটকদের নখদর্পণে থাকলেও, ঝালদা ২ ব্লকের কলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের গুরিডি গ্রাম এতদিন আড়ালেই ছিল। সেখানে গভীর জঙ্গলের মাঝে খোঁজ পাওয়া গেছে এক রহস্যময় উষ্ণ প্রস্রবণের (Natural Hot Spring), যার কথা এতদিন বিশেষজ্ঞরা টেরও পাননি।
প্রকৃতির আজব আচরণ: সুবর্ণরেখা নদীর কাছে ‘কাড়িয়র’ জমানি খালের পাড়ে পাথুরে চাটানের মাঝে এই কুণ্ডটি অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই কুণ্ডের জল ঋতুভেদে চরিত্র বদলায়। অবিশ্বাস্যভাবে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন চারপাশ শুকিয়ে কাঠ, তখন এই কুণ্ডের জল থাকে সুশীতল। আবার হাড়কাঁপানো শীতকালে এই জলই হয়ে ওঠে মনোরম উষ্ণ। বছরের পর বছর ধরে গবাদি পশু চরাতে আসা গ্রামবাসীরা এই জল পান করেই তেষ্টা মেটান।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? এই রহস্যের পর্দা ফাঁস করেছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। ভূ-বিজ্ঞানী ডঃ বিশ্বজিৎ বেরার মতে, এলাকাটি ‘নর্থ পুরুলিয়া শিয়ার জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি আসলে একটি ‘জিওথার্মাল ন্যাচারাল হট স্প্রিং’। মাটির গভীর ফাটল দিয়ে জল নিচে চলে গেলে ভূ-গর্ভস্থ তাপে তা উত্তপ্ত হয় এবং বুদবুদ আকারে উপরে উঠে আসে। এই জলে সালফার ও নানাবিধ খনিজ থাকার সম্ভাবনা প্রবল, যা চর্মরোগ সারাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে।
পর্যটনের নতুন দিগন্ত: দুর্গম পথ পেরিয়ে এই প্রাকৃতিক বিস্ময় দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন কৌতূহলী মানুষ। গ্রামবাসীদের দাবি, বক্রেশ্বরের মতো ঝালদার এই উষ্ণ প্রস্রবণকেও যদি সরকার সংরক্ষণ করে, তবে গুরিডি গ্রাম পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ জায়গা করে নেবে। রুক্ষ পুরুলিয়ার বুকে এই ‘গরম জলের আধার’ যে আগামী দিনে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।