সিলেবাসে বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ তকমা! NCERT-র ওপর চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সিজেআই-এর

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)-এর অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবই নিয়ে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘শ্লথ’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি সামনে আসতেই নজিরবিহীনভাবে রুষ্ট হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার একটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত সাফ জানিয়ে দেন, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এই প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিতর্কের মূলে কী আছে? অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ের একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার একাংশ দুর্নীতির কবলে। পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে লক্ষ লক্ষ মামলা ঝুলে থাকায় সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।
প্রধান বিচারপতির কড়া অবস্থান: বিষয়টি শুনেই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, “সকাল থেকে হাইকোর্টের বিচারপতিরা আমায় ফোন ও মেসেজ করছেন। এটা বিচারব্যবস্থার ওপর এক গভীর ও পরিকল্পিত আক্রমণ। কাউকে আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করতে আমরা দেব না।” প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিও সুর মিলিয়ে বলেন, “মনে হচ্ছে কেবল বিচারব্যবস্থাতেই দুর্নীতি রয়েছে! আমলা বা রাজনীতিকদের নিয়ে কেন কিছু লেখা নেই?”
পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রধান বিচারপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) হস্তক্ষেপ করতে পারে। তিনি সাফ জানান, আইন তার নিজের পথে চলবে এবং শীঘ্রই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগেও ইতিহাস বিকৃতি বা তথ্য বাদ দেওয়া নিয়ে NCERT কাঠগড়ায় উঠলেও, সরাসরি বিচারবিভাগকে নিশানা করায় এবার পরিস্থিতি আইনি লড়াইয়ের দিকে মোড় নিল।