সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় হেমন্ত সোরেনের! ইডির আর্থিক তছরুপের মামলায় স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে বড়সড় স্বস্তি ফিরল মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের শিবিরে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর করা জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এই নির্দেশের ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের ওপর থেকে আইনি চাপের বোঝা অনেকটাই হালকা হলো।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও ইডিকে বার্তা: এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ইডির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইডিকে কার্যত সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা খবরে দেখছি আপনারা একের পর এক মামলা করছেন। এই বিষয়গুলোতে মন দিন, তাহলে গঠনমূলক ফল পাবেন।” শুধু তাই নয়, বিচারপতি বাগচীও শুনানিতে মন্তব্য করেন, “কার্যকরী প্রসিকিউশনের (Effective Prosecution) দিকে নজর দিন।” আদালতের এই পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে, ঢালাও মামলার চেয়ে প্রমাণের গুরুত্বে বেশি জোর দিতে চাইছে শীর্ষ আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি জমি দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। গ্রেফতারির ঠিক আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস জেলবন্দি থাকার পর গত ২৮ জুন ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চম্পই সোরেন পদত্যাগ করলে হেমন্ত পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: নির্বাচনী মরসুমের প্রাক্কালে সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশ হেমন্ত সোরেনের জন্য অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে। বিরোধীরা যখন ইডি-সিবিআইয়ের তৎপরতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলছে, তখন শীর্ষ আদালতের এই রক্ষাকবচ জেএমএম-এর জন্য নৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে আপাতত বড় বিপদ কাটল সোরেনের।