যাদবপুরে ফের রণক্ষেত্র! ছাত্র সংঘর্ষে ফাটল ছাত্রের কানের পর্দা, উত্তপ্ত ক্যাম্পাসে কড়া অ্যাকশনে কর্তৃপক্ষ

অশান্তির কালো মেঘ সরছে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গত শুক্রবার শিক্ষক নিগ্রহের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সন্ধ্যায় ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। এসএফআই (SFI) ও ‘কালেক্টিভ’ সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন স্নাতকোত্তর ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। বর্তমানে তিনি কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন।
আক্রমণের নেপথ্যে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো?
এসএফআই-এর অভিযোগ, গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের ওপর হামলার সময় প্রিয়ম আক্রান্ত অধ্যাপকদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ‘অপরাধেই’ সোমবার ১০-১২ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ধরে নৃশংসভাবে মারধর করে। কানে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে অধ্যাপকরাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এসএফআই নেত্রী কৌশিকী ভট্টাচার্যের দাবি, শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোতেই প্রিয়মকে নিশানা করা হয়েছে।
কড়া পদক্ষেপ ও তদন্ত কমিটি:
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার সকালেই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্যের নির্দেশে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে আইএসআই কলকাতার প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক বিমল রায়কে। কমিটিতে রয়েছেন শ্যামল রায়, শম্পা দাস এবং প্রো-উপাচার্য অমিতাভ দত্তর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের কর্মবিরতির ডাক:
এদিকে, অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি। ক্যাম্পাসে বারবার এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোই এখন কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।