বুথ সুরক্ষা মামলায় নয়া মোড়! কমিশন ও রাজ্যের জবাবে পাল্টা হলফনামা দেবেন শমীক ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী বুথগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিত করার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বড় আপডেট। রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা হলফনামা (Rejoinder) পেশ করতে চান মামলাকারী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে এই বক্তব্য জানানোর জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি শমীক ভট্টাচার্য এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, রাজ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে নির্বাচনের নামে প্রহসন চলছে। আসন্ন নির্বাচনগুলোতে যাতে বুথ দখল বা অশান্তির পুনরাবৃত্তি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই কাজে রাজ্য সরকার গাফিলতি করলে প্রয়োজনে কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানিয়েছিল যে, রাজ্যের নির্বাচনী বুথগুলোতে নিরাপত্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও টয়লেটের মতো পরিষেবা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (NBCC)-কে। আগে এই দায়িত্বে ছিল ম্যাকিনটোস বার্ন সংস্থা, কিন্তু তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই অব্যাহতি নেয়। সোমবার শমীক ভট্টাচার্যের আইনজীবী জানান, অতীতের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে তাঁরা অতিরিক্ত হলফনামার মাধ্যমে নিজেদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আদালতের সামনে রাখতে চান।

এই বিষয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে হলে শুধু এসআইআর (SIR) রিপোর্ট দিলে চলবে না। বুথকে সুরক্ষিত করতে হবে এবং নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।” মামলার পরবর্তী শুনানি এক সপ্তাহ পর। আদালত এখন বিজেপি সভাপতির পাল্টা হলফনামার দিকেই তাকিয়ে।