তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ‘অপারেশন ক্লিন’! ৪০ জন বিধায়কের টিকিট কাটার সম্ভাবনা, নজরে ‘রিপোর্ট কার্ড

বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সময়ের অপেক্ষা, কিন্তু তৃণমূলের অন্দরমহলে প্রার্থী তালিকা নিয়ে পারদ চড়তে শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, ২০২৬-এর নির্বাচনে টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার চূড়ান্ত কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন। কাজ এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি—এই দুই ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে কার নাম তালিকায় থাকবে আর কার কাটা যাবে।
কারা বাদ পড়তে পারেন? সূত্রের দাবি, বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে অন্তত ৪০ থেকে ৪২ জনের টিকিট এবার অনিশ্চিত। যাঁদের বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে এলাকায় সক্রিয় না থাকা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সরিয়ে নতুন মুখ আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। বিশেষ করে জেলা স্তরে যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে, তাঁদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে বার্তা দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
হেভিওয়েটদের আসন বদল: তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে মন্ত্রীদের আসন পরিবর্তন। উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার বেশ কিছু প্রবীণ নেতাকে তাঁদের শারীরিক অবস্থা ও বয়স বিবেচনা করে অপেক্ষাকৃত ‘নিরাপদ’ বা বাড়ির কাছের আসনে সরিয়ে আনা হতে পারে। বদলে সেই আসনগুলোতে পাঠানো হতে পারে তরুণ ও লড়াকু নেতাদের। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞতার সাথে উদ্দীপনার এক ভারসাম্য তৈরি করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
সতর্ক তৃণমূল নেতৃত্ব: টিকিট না পেয়ে যাতে কেউ দলবদলের পথে না হাঁটেন, সে বিষয়েও সতর্ক লালবাজারের অন্দরমহল (তৃণমূল ভবন)। প্রার্থী তালিকায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১-এর ‘ভাঙন’ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অত্যন্ত সাবধানে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।