আদালতকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের! ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫% হলো আমদানি শুল্ক, বিশ্ব অর্থনীতিতে মহা-সংকট?

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেয়েও পিছু হঠতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টে আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগে ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক (Global Tariff) বাড়িয়ে সরাসরি ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিলেন তিনি। রবিবারের এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা উস্কে দিয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে কড়া বার্তা: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প আদালতের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি এই রায়কে ‘দুর্বল’ এবং ‘আমেরিকা বিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, “বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশ আমেরিকার সুযোগ নিয়েছে, এবার তা বন্ধ করার সময় এসেছে।” তাঁর দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হবে।

কেন এই পরিস্থিতি? গত সপ্তাহেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের শুল্ক নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো শুল্ক চাপাতে পারেন না। আদালতের এই বার্তায় স্পষ্ট ছিল যে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতারও একটি সীমা রয়েছে।

আইনি মারপ্যাঁচ ও ট্রাম্পের পাল্টা চাল: আদালত ক্ষমতা খর্ব করলেও ট্রাম্প এবার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারেন, তবে তা কেবল ১৫০ দিনের জন্য। এরপর শুল্ক বহাল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ট্রাম্পের এই নয়া পদক্ষেপ আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব: ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আদালতের যুক্তিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা জারি করে যেকোনো দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর প্রশাসনের রয়েছে।